কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার বিস্তার এক ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি

মহিব্বুল ইসলাম খান [সূত্র : কালের কণ্ঠ, ০৭ মে ২০২৬]

বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার বিস্তার এক ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি

তথ্য-প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার বিস্তার এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা সমাজের সর্বক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। আগে জুয়া শুধু শহর বা গ্রামাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু স্থান ও স্বল্পসংখ্যক মানুষের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে স্মার্টফোন ও সহজলভ্য ইন্টারনেটের কারণে তা শহর থেকে গ্রামাঞ্চল—সব জায়গায় মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সব পেশার সব বয়সের নারী-পুরুষ এতে জড়িয়ে পড়লেও বিশেষভাবে তরুণদের মাঝে এর প্রসার ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। দ্রুত ধনী হওয়ার আশায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ এই মারাত্মক নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মানসিক, শারীরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে।

 
অনলাইন বেটিং ও জুয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করার জন্য আসক্ত ব্যক্তিরা প্রতারণা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারামারিসহ নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে হত্যা কিংবা আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুললেই মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে নানা লোভনীয় ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিংবা তারকা খেলোয়াড়দের ছবিসংবলিত এসব বিজ্ঞাপনে বিনা পুঁজিতে কিংবা স্বল্প পুঁজিতে ঘরে বসেই লাখ টাকা আয় করার লোভ দেখানো হয়। ফলে খুব সহজেই তরুণরা জড়িয়ে পড়ে জুয়ার ফাঁদে।

 
 
বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার বিস্তার ঘটে এ দেশে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার প্রচলন হওয়ার পর থেকেই। বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং কার্যক্রমের সূচনা হয় ২০১২ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) আয়োজনের মধ্য দিয়ে। তখন থেকেই অনলাইন স্পোর্টস বেটিং দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট; যেমন—আইপিএল, লা লিগা, ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ ইত্যাদি তরুণদের মাঝে জুয়ার প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়। ২০১৪-১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রথম অনলাইন বেটিং কার্যক্রম দৃশ্যমান হতে শুরু করে, যখন Bet 365, Betfair ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সাইট VPN দ্বারা সংযুক্ত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েব অ্যাডের মাধ্যমে বাংলাদেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে শুরু করে।
পরে ২০১৮ সাল থেকে Crickex, Babu88, BJ Sports ইত্যাদি সাইট সরাসরি বাংলা ভাষায় ওয়েবসাইট তৈরি করে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য জুয়াকে সহজলভ্য করে তোলে। অনলাইন বেটিং ও জুয়ার প্রচারণায় Facebook, Instagram, YouTube-সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে টার্গেটভিত্তিক প্রচারণা পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অনলাইন বেটিং ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত। একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ২০২৭ সালের মধ্যে দুই কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই সংখ্যা আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য অশনিসংকেত।
 
 
 
 

 

বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতি, ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতার কারণে ব্যাপক হারে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটেছে। অনলাইন জুয়ার বিস্তারের অনেকগুলো কারণের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো, এটি মানুষের মানসিক ও চারিত্রিক দুর্বলতার সুযোগ নেয়।

 

 

আর্থিক কষ্টে জর্জরিত মানুষ, বিশেষ করে কর্মহীন যুবকরা টাকা উপার্জনের নেশায় অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। ‘ঘরে বসে লাখপতি’, ‘এক দিনে লাখপতি’ কিংবা ‘বিনা পুঁজিতে টাকা আয়’ ইত্যাদি লোভনীয় বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তারা প্রথমে অল্প টাকা (১০০ থেকে ৫০০ টাকা) দিয়ে অনলাইন জুয়া সাইটে যুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে দু-একবার লাভ করার পর নিশ্চিত লাভের আশায় বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগের ঝুঁকি নেয়। এ দেশে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় সক্রিয় রয়েছে একটি আন্তর্দেশীয় নেটওয়ার্ক, যেখানে সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন বিদেশি ওয়েবসাইট, আন্তর্জাতিক বেটিং এজেন্সি এবং কিছু দেশীয় এজেন্ট নেটওয়ার্ক। এসব প্ল্যাটফর্ম বিদেশ থেকে তাদের সার্ভার ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করলেও প্রচার, রিচার্জ ও নগদ টাকা আদান-প্রদান সম্পন্ন হয় দেশীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। বর্তমানে এসব সাইটে বেটিং, জুয়া ও ক্যাসিনো গেমস খেলা ছাড়াও বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ হুন্ডি, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ভার্চুয়াল ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ও আর্থিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

 

 

অনলাইন বেটিং ও জুয়া নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় বাধা হলো জুয়া নিয়ন্ত্রণের দুর্বল আইন ও আইন প্রয়োগের কাঠামোগত ভিত্তি। দীর্ঘদিন অতি প্রাচীন ‘Bengal Public Gambling Act, 1867’ আইনটি দ্বারা এ দেশের জুয়া কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা হলেও এই আইনটি অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর। এই সমস্যা দূরকল্পে সরকার ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়ন করে, যেখানে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, দমন ও বিচার সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে সাইবার স্পেসে সব ধরনের অনলাইন বেটিং/জুয়া খেলার নিমিত্ত কোনো পোর্টাল বা অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি করা বা পরিচালনা করা বা জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করা বা খেলায় সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই আইনের ২০ নম্বর ধারার উপধারা (১) কোনো ব্যক্তি এই অপরাধ সংঘটন করলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও মানি লন্ডারিং এবং জালিয়াতি আইন ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

 

 

যদিও নতুন জারীকৃত অধ্যাদেশটি অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, তথাপি কার্যকরভাবে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অনলাইন বেটিং ও জুয়া ওয়েবসাইট ও অ্যাপ চালু হওয়ায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধ করা ভীষণ কষ্টকর। অনলাইন জুয়ার আর্থিক লেনদেন অনেক ক্ষেত্রেই হুন্ডি, ক্রিপ্টোকারেন্সি কিংবা ভার্চুয়াল ওয়ালেটের মাধ্যমে হয়, যা দেশীয় আইন ও গোয়েন্দা সংস্থার আয়ত্তের বাইরে থাকে। এ ছাড়া VPN ও ডার্কনেট ব্যবহার করে সাইটগুলো পরিচালিত হয় বিধায় এদের শনাক্ত করা ও ব্লক করা বেশ কঠিন।

 

 

লোভনীয় বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে ব্যবহারকারী সহজেই জুয়া সাইটে প্রবেশ করে, যেখানে বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। কোনো একটি সাইট ব্লক করা হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অন্য নামে নতুন সাইট চালু হয়ে যায়। বিদেশি সার্ভার, পেমেন্ট গেটওয়ে বা অ্যাপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক সীমাবদ্ধতা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফেক সিম ও একই এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত একাধিক সিম ব্যবহার করে বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি অ্যাকাউন্ট খুলে অবৈধ লেনদেন পরিচালিত হয় বিধায় অপরাধীদের শনাক্ত করাও বেশ কঠিন। এ ছাড়া মনিটরিং, তদন্ত ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল ও সক্ষমতার অভাব রয়েছে।

 

 

অনলাইন বেটিং ও জুয়া মহামারি আকারে শহর থেকে গ্রামাঞ্চল সর্বত্র, ছোট থেকে বড়, পুরুষ ও মহিলা সবার মাঝে বিস্তার লাভ করেছে। সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়া বা বেটিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর, যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনলাইন জুয়ার আসক্তি ব্যক্তিজীবনে নিয়ে আসে নানা বিপত্তি। জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তিরা তাদের সঞ্চয়, সম্পত্তি, এমনকি পরিবারের মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করে দেয়। দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে পড়ে তারা আরো বেশি টাকা বিনিয়োগ করে এবং একসময় সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। জুয়ার আসক্তি মাদকাসক্তির মতোই মানুষের মস্তিষ্কের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে উদ্বেগ, হতাশা, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং বিষণ্নতা বেড়ে যায়। জুয়ায় আর্থিক ক্ষতির কারণে অনেকের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়, যা অনেক সময় আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়।

 

 

 শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা জুয়ায় আসক্তির ফলে পড়ালেখায় অমনোযোগী এবং কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে, অনেকে চাকরি হারায় বা পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। অনলাইন জুয়া পারিবারিক ঐক্য ভেঙে দেয়, পরিবারের মধ্যে বিবাদ, অবিশ্বাস ও বিচ্ছেদ ঘটায়। আসক্ত ব্যক্তিরা পরিবার ও বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে অনেকে চুরি, প্রতারণা বা অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সমাজে বিভিন্ন অপরাধ; যেমন—চুরি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইন জুয়া দেশের অর্থনীতিকেও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন জুয়ার সাইটগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অবৈধ অর্থপাচারের ফলে শুধু ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

 

 

অবৈধ অনলাইন বেটিং ও জুয়া কার্যক্রম রোধকল্পে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য জুয়ায় সক্রিয় চক্রগুলোকে চিহ্নিত করা, তাদের আর্থিক প্রবাহ ব্যাহত করা, তরুণসমাজকে এই ভয়াবহ কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ, আইনানুগ পদক্ষেপ—সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক। প্রথমেই অবৈধ/ফেক সিমের বিক্রয় ও ব্যবহার বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সিম রেজিস্ট্রেশনের সময় মোবাইল অপারেটরদের ডেটা বেইসে প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে এনআইডি ডেটা বেইসের তথ্যের ক্রস চেক করতে হবে।

 

 মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (MFC) অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে। MFC অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে যেই এনআইডি ব্যবহার করে সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে, সেই একই এনআইডি দ্বারা সংশ্লিষ্ট MFC অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। NID তথ্য ও MFC অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীর প্রকৃত তথ্য যাচাই করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। অনলাইন জুয়া রোধকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসি, সিআইডি, ডিএমপি সাইবার ইউনিট ও আইসিটি ডিভিশনের সমন্বয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যেসব পেজ, গ্রুপ বা লিংকের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো বন্ধের জন্য ওই যৌথ টাস্কফোর্সকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

 

অনলাইন বেটিং ও জুয়া একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। সমাজের সর্বস্তরে, বিশেষ করে যুবক শ্রেণির মধ্যে এই ব্যাধি মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এই মহামারির রয়েছে নানা নেতিবাচক প্রভাব, যা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক গণ্ডি পেরিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত উদ্যোগ। যথাযথ আইন প্রণয়ন করে এর কার্যকর বাস্তবায়নেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে। সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে শুধু আইন প্রয়োগ করে অনলাইন জুয়া বন্ধ করা যাবে না। বিভিন্ন টেলিভিশন, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিকগুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। যুবসমাজের নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে এবং তাদের কারিগরি ও বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মশক্তিতে পরিণত করা গেলে তারা অনলাইন জুয়া থেকে সরে আসবে। ‘অনলাইন জুয়া একটি মারাত্মক অপরাধ’—এই স্লোগানটি সর্বস্তরের জনগণের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।

 

 

লেখক : সামরিক কর্মকর্তা