কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

বাংলাদেশের সামনে সুযোগ

ভারতের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে ইউরোপ শাহেদ আলী ইরশাদ [সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬]

বাংলাদেশের সামনে সুযোগ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৬-২৮ সময়কালের জন্য ভারতের ওপর অগ্রাধিকারমূলক বাজার (জিএসপি) সুবিধা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ভারতের ইউরোপমুখী রপ্তানির বড় অংশ উচ্চ শুল্কের মুখে পড়ছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক বড় রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ স্বল্পমেয়াদে উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে।

 

 

 

ভারতের রপ্তানির প্রায় ৮৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানিকারকরা বিকল্প উৎসের দিকে নজর দিচ্ছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে, যেখানে দামের সামান্য পার্থক্যই ক্রেতার সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

 

 

 

বাংলাদেশ এখনো ইউরোপের এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। ফলে একই ধরনের পোশাকপণ্যে ভারতকে যেখানে ১০-১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে, সেখানে বাংলাদেশ শুল্ক ছাড়াই পণ্য সরবরাহ করতে পারছে। এর ফলে ইউরোপের ক্রেতাদের একটি অংশ ভারত থেকে বাংলাদেশে অর্ডার সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদে বাড়তে পারে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সুবিধা স্থায়ী নয়। কারণ বাংলাদেশ নিজেই ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কমুক্ত সুবিধা হারালে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও চাপে পড়তে পারে।

 

 

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। শুল্ক সুবিধা প্রত্যাহার হলে রপ্তানির ওপর তার প্রভাব কতটা তীব্র হতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ। যদিও পোশাক খাতে বাংলাদেশের লাভের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তবে অন্যান্য শিল্প খাতে ভারতের জায়গা পূরণ করা বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে না। খনিজ, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক বা ইস্পাতের মতো শিল্পপণ্যে ভারতের উৎপাদন সক্ষমতা ও বৈচিত্র্য অনেক বেশি। ফলে এসব খাতে ইউরোপের আমদানিকারকরা বাংলাদেশকে পূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখবে এমন সম্ভাবনা সীমিত।

 

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার সব রপ্তানিকারক দেশকেই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কার্বন নিঃসরণ বেশি এমন শিল্পে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়বে। বাংলাদেশ যদি টেকসই উৎপাদন ও গ্রিন এনার্জিতে বিনিয়োগ বাড়াতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে এ সুবিধাও ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে।

 

 

 

 বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্রত্যাহার বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত সময়ের জানালা খুলে দিয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশ ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে পারে, নতুন ক্রেতা ধরে রাখতে পারে এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী শুল্ক কাঠামো নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অথবা জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনের জন্য কূটনৈতিক ও নীতিগত তৎপরতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

 

 

 ভারতের ওপর ইউরোপের জিএসপি সুবিধা স্থগিত বাংলাদেশের জন্য স্বল্পমেয়াদে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে আত্মতুষ্টির সুযোগ নয়। বরং এ সময়টিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা, পরিবেশগত মান এবং বাণিজ্য কূটনীতি শক্তিশালী করতে না পারলে, কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।