কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

বাংলাদেশকে স্থিতিশীল দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

এম. হুমায়ুন কবির [প্রকাশ: খবরের কাগজ, ০৮ মার্চ ২০২৬]

বাংলাদেশকে স্থিতিশীল দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

সরকার বলে অনেক কিছু, কিন্তু বাস্তবে তা করতে পারে না। তার কারণ, অভ্যন্তরীণ সেই শক্তি বা উপাদান তৈরি হয়নি। মনে রাখতে হবে, ১৯৩টি দেশ জাতিসংঘের সদস্য। তার একটা বাংলাদেশ। আমাদের বাইরে ১৯২টি দেশ আছে। কাজেই এখানে আমার দেশের আকর্ষণ তৈরি করতে চাই তাহলে আমাকে সত্যিকার অর্থে তুলনামূলক আকর্ষণের জায়গা তৈরি করতে হবে।...

 
 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা থেকেই হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বের আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু উপাদান। পৃথিবী বাংলাদেশকে একটা প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দেখতে চায়। এটা হলো ১ নম্বর উপাদান। সত্যিকার অর্থে মানবাধিকার সংরক্ষণসহ নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা- এ বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগী হয়ে আমি যদি দেশকে গণতান্ত্রিকভাবে প্রাণবন্ত করতে পারি তাহলে সেটা হবে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সর্বোত্তম অস্ত্র। দ্বিতীয় হলো- বাংলাদেশে এখনো ২০ শতাংশ অর্থাৎ জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। কাজেই দারিদ্র্য বিমোচন আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং গত জুলাই-আগস্টে যে অভিজ্ঞতাটা পেলাম, সেখানে আরেকটা উপাদান বেশ জোরালোভাবে সামনে এসেছে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা দরকার। এটা কীভাবে সম্ভব হবে আমাদের ভাবতে হবে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে আমাদের যে সম্পর্কের ভিত্তিটা আছে, তা ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলছে।

 

 

 

অর্থনীতির তিনটি প্রধান পিলার রয়েছে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে কৃষি। সেখানে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা বিদ্যমান। ভারত, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলুন, সবার কাছ থেকে আমরা এ বিষয়ে সহযোগিতা নিই। কৃষির আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ হয়। এটা জাতীয় স্বার্থের একটা মৌলিক জায়গা। দ্বিতীয় পিলার হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য আমরা রপ্তানি করি। এর বিপরীতে অনেক পণ্য আমাদের আমদানি করতে হয়। আমদানি-রপ্তানি পরস্পর নির্ভরশীল। চীন, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে আমরা কাঁচামাল আমদানি করি। এই আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর মূল্যসংযোজন করা হয়। এরপর ইউরোপ, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এসব জায়গায় পাঠানো হয়। এর অর্থ হচ্ছে- আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সবার সঙ্গেই একটা সংযোগ আছে। আমাদের রপ্তানি পণ্যের মূল গন্তব্য পশ্চিমা দেশগুলো, অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পিলার হলো রেমিট্যান্স। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বিরাট সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীবাহিনী আছে। অপর দিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, যেমন- সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডে আমাদের প্রবাসীরা কাজ করছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রেও বহু প্রবাসী আছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের জাতীয় স্বার্থের একটা পিলার। কাজেই ওইসব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার কোনো বিকল্প নেই। বিষয়টা অর্থনৈতিক। কাজেই অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে যেসব দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়, যে দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স আসে, যে দেশগুলো কৃষিক্ষেত্রে জোগান দেয়, সেই দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখতে হবে। এখানে পছন্দ-অপছন্দের জায়গা তেমন ভূমিকা রাখে না। এর সঙ্গে দেশের মানুষের ভাগ্য জড়িত। আমরা অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দেশ। আমরা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সবার সঙ্গে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি রেখে চলতে চাই। ভালো সম্পর্ক রেখে কাজ করতে চাই। আর ভাবমূর্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও ব্যবসা-বাণিজ্যও জড়িত। টেকনোলজি যেগুলো আমাদের প্রয়োজন এগুলোও জড়িত।

 

 

 

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক উদারনৈতিক দেশ। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য উপযুক্ত জায়গা। শান্তিপূর্ণ বিশ্ব রক্ষায় জাতিসংঘের আওতায় সবগুলো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ যুক্ত থাকবে। গণতান্ত্রিক, উদারনীতির ক্ষেত্রে ভাবমূর্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য, রপ্তানির জন্য, রেমিট্যান্সের জন্য, বিনিয়োগের জন্য, ব্যবসায়ীদের জন্য ভাবমূর্তি রাখতে হবে। বিদেশি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশকে কীভাবে দেখে? কোনো দেশের সঙ্গে রেষারেষি থাকলে, সম্পর্ক খারাপ করলে ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই ১৯৭২ সালে এ নীতিমালায় আমরা ধ্রুবতারা হিসেবে জড়িয়ে ছিলাম। পরবর্তীতে মনে হয়েছে, কারও সঙ্গে বেশি বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে কম বন্ধুত্ব কেন করছি না। প্রয়োজনের নিরিখে, জাতীয় স্বার্থের নিরিখে, কারও সঙ্গে একটু বেশি হবে, কারও সঙ্গে একটু কম হবে। কিন্তু সরাসরি কারও সঙ্গে বৈরিতায় যাওয়ার প্রয়োজন মনে করছি না। এবং সেটা আমাদের জন্য উপাদেয় হবে বলে মনে করি না। সবার সঙ্গেই বন্ধুত্ব থাকবে। বন্ধুত্বের জায়গায় বন্ধুত্ব। জাতীয় স্বার্থ, জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতেই আমরা পররাষ্ট্রনীতি পরিপক্ব করব। মোটা দাগে যেটা বলে শেষ করব, সেটা হচ্ছে, এ নীতিমালা এখনো আমাদের সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। এটা পরিবর্তনের প্রয়োজন এখন পর্যন্ত মনে হয় না। বাস্তব অবস্থাও সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত বা সুযোগ দিচ্ছে না।

 

 

 

বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল একটা দেশ হিসেবে দেখতে চায়। ট্রাম্প প্রশাসন এসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল দেশ হিসেবে দেখতে চাইবে- এটা স্বাভাবিক নয়। আমার মনে হয়, তিনিও চান বাংলাদেশ স্থিতিশীল থাক। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা ভালো অর্থনৈতিক সম্পর্ক আছে। আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। আমাদের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগটা বাড়বে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থনৈতিক সম্পর্কটাকে সমৃদ্ধ করতে চাইবে না বা বাংলাদেশে অর্থনৈতিক জায়গাটা সম্প্রসারিত হোক তা চাইবে না- এটা মনে করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্র একটি বলয়। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভারতের চোখ দিয়ে দেখতে পারে। বিশেষ করে, এখন যেহেতু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আছেন, মোদির সঙ্গে তার সখ্যতা আছে। সে বিষয়ে অনেকেই এটাও বলেন যে, তারা বাংলাদেশের ব্যাপারে হয়তোবা এমন কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেন- যা পূর্ববর্তী সরকারের পক্ষে ইতিবাচক হতে পারে। তবে এসবই ধারণা। যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলকে তার চীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোকে দেখে, এটা একটা বাস্তবতা। দ্বিতীয় বাস্তবতা হচ্ছে- এ অঞ্চলের দেশগুলো ভারতের নেতৃত্বে থাক তারা তা পছন্দ করে না। গত ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে খুব ভালো নীতি গ্রহণ করেনি, যাতে দেশগুলো ভারতের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করতে পারে। সে কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত ও আগ্রহী হয়ে আছে। কারণ তারা চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চোখে দেখে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এ দেশগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত থাকলে চীনের সঙ্গে এই দেশগুলোর সম্পর্কের সম্ভাবনা কম। সেই কৌশলগত বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এ মুহূর্তে বাংলাদেশের মতো একটা জনবহুল দেশ।  বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত একটা দেশের মধ্যে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আলোকেই দেখতে আগ্রহী থাকবে। কাজেই কৌশলগত অর্থনৈতিক অবস্থা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, দুই দেশের স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক- এসবের আলোকে বিশ্লেষণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের এই মুহূর্তে আগের সম্পর্কের চাইতে সম্পর্ক খুব বেশি পরিবর্তিত হওয়ার কোনো জায়গা নেই। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের এ চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসছে বাংলাদেশে। এটা ইকোনমিস্টের মতামত। সে কারণেই চীনের সঙ্গে দেশগুলোর সম্পর্ক বাড়ার একটা সম্ভাবনা আছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি কৌশলগতভাবে সে ব্যাখ্যটা গ্রহণ করে, তাহলে আমাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালোই থাকবে। আমরা সবগুলো সম্পর্কই ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে আগ্রহী। আমার ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র সে বিষয়টা গ্রহণ করবে।

 

 

 

দেশে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিদেশি বিনিয়োগ বলেন, আর অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বলেন ১০ বছরে ধরে এর অবস্থা ভালো না। কাজেই এখানে এমন একটা অর্থনীতি কাঠামো দাঁড় কারানো দরকার, যে কাঠামো হবে  স্বচ্ছ, গোষ্ঠীকেন্দ্রিক নয় এবং সব মানুষের জন্য সমানভাবে সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। যে কাঠামোটা তরুণ প্রজন্মের কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারে। সেই কাঠামোটার ভিত্তি হবে শিক্ষিত এবং দক্ষ জনগোষ্ঠী। সেটা যদি করতে পারি, তাহলে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষিত হবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক একটা জায়গায় নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবে। তৃতীয়ত- বাংলাদেশকে উদারনীতির দেশ হতে হবে। যেখানে বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক, সব মানুষের উদার ও মুক্তচিন্তার দেশ হিসেবে তৈরি করতে পারি। সেটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করবে। সেই ভাবমূর্তিটাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি সক্রিয় কূটনীতির মাধ্যমে। তাহলে বাংলাদেশের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হবে। আমরা যে সম্পর্ক গড়তে চাচ্ছি, সে সম্পর্কটা একটা যুক্তিসঙ্গত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

 

 

 

বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মৌলিক ইস্যুতে সহমর্মিতা দেখা যায়। একদল ক্ষমতায় থাকে, আরেক দল বাইরের দেশে গিয়ে বদনাম করে। জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করা মৌলিক বিষয়- এটাও কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাহলে নীতিগত পলিসি সমানভাবে চলবে, সরকার পরিবর্তন হলেও নীতির পরিবর্তন হবে না। এখন যারা বাইরের বন্ধু আছে তারা বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে দেখতে চায়। তখন তারা দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ পাবে। সে ক্ষেত্রে তারাও আগ্রহী হবে এবং আমরাও আগ্রহের জায়গা তৈরি করতে পারব। আমলাতন্ত্র বলেন, বিচারব্যবস্থা বলেন- এসব প্রতিষ্ঠানকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগে না আসার অন্যতম কারণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। কাজেই আপনি যদি বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় করতে চান, যদি দৃষ্টি পেতে চান, তাহলে আপনাকে এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেক বেশি দক্ষ করতে হবে, দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ করতে হবে। সেটা করলেই বুঝতে পারা যাবে যে, সম্পর্কের বুনন টেকসই হচ্ছে বা হবে। সরকার বলে অনেক কিছু, কিন্তু বাস্তবে তা করতে পারে না। তার কারণ, অভ্যন্তরীণ সেই শক্তি বা উপাদান তৈরি হয়নি। মনে রাখতে হবে, ১৯৩টি দেশ জাতিসংঘের সদস্য। তার একটা বাংলাদেশ। আমাদের বাইরে ১৯২টি দেশ আছে। কাজেই এখানে আমার দেশের আকর্ষণ তৈরি করতে চাই তাহলে আমাকে সত্যিকার অর্থে তুলনামূলক আকর্ষণের জায়গা তৈরি করতে হবে। যতই আমি অভ্যন্তরীণভাবে বলি বা প্রচার করি, মোটা দাগে বা শেষ বিচারে গিয়ে আপনি সম্পর্কগুলোকে সঠিকভাবে বা শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড় করতে পারবেন না। বাংলাদেশ একটা পরিবর্তনের মুখে আছে, যেহেতু তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাটা ভেঙে গেছে, তারা একটা দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাচ্ছে,,দায়বদ্ধ দেশ চাচ্ছে,,গণতান্ত্রিক দেশ চাচ্ছে, তারা উদারনীতির দেশ চাচ্ছে। আমি মনে করি, এটা একটা উপযুক্ত সময় অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাকে সংস্কার করে একটি আকর্ষণীয় বাংলাদেশ তৈরি করা। 

 

 

 

লেখক: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত