কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

[সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৯ এপ্রিল ২০২৬]

বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাব পড়েছে এবার বাংলাদেশেও। ভোক্তাপর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫, অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫ ও কেরোসিন ১৩০ টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত রাত ১২টার পর থেকে এ মূল্য কার্যকর হয়।

 

 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এ মূল্য কার্যকর হওয়ায় আজ থেকে দেশের সব ফিলিং স্টেশন ও পরিবেশক পর্যায়ে এই নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে হবে। গত রাতে সিনিয়র সহকারী সচিব এনামুল হকের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

 

 

৩১ মার্চ মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এপ্রিলের জন্য ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া কেরোসিন ১১২, পেট্রোল ১১৬ এবং অকটেন ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে আসছিল। তারও আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় ২ টাকা করে জ্বালানি তেলের মূল্য কমানো হয়েছিল। এ মূল্য মার্চেও বহাল থাকে। তবে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির কারণে এবার বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটল সরকার।

 

 

নতুন সমন্বয়ে ডিজেল ১০০ থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেরোসিন ১১২ থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, এতে লিটারে ১৮ টাকা বেশি গুনতে হবে ভোক্তাকে। অকটেন ১২০ থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, এখানে লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা বৃদ্ধি দেখা গেছে। আর পেট্রোল ১১৬ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, যা লিটারে ১৯ টাকা বেশি। এর ফলে পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন ব্যয় এবং সাধারণ ভোক্তাপর্যায়ের ব্যয়েও নতুন করে চাপ পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং সরবরাহব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

 

 

 চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ক্রমাগত বাড়ছে মূল্য। জ্বালানির এ অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশেও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পাওয়া যাচ্ছে না জ্বালানি তেল। পেট্রোলপাম্পগুলোতে কিছুদিন ধরেই যানবাহনের ভিড়। মানুষের অভিযোগ, চাহিদামতো তারা জ্বালানি তেল পাচ্ছে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

 

মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগে একশ্রেণির মানুষ জ্বালানি তেল মজুত করছে। জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সারা দেশে অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে ৫ লাখের বেশি অবৈধভাবে মজুত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াবে না। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে অবশেষে বাড়ানো হলো জ্বালানির তেলের দাম। এর আগে এপ্রিলের জন্য জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে সাধুবাদ জানিয়েছে। সমিতির সদস্যসচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের বাজারে সমন্বয় করায় সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।’