কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

হরমুজ প্রণালি বন্ধ : দেশে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

[সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৩ মার্চ ২০২৬]

হরমুজ প্রণালি বন্ধ : দেশে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যুদ্ধ বিশ্বশান্তির জন্য এখন ভয়াবহ হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাও কেড়ে নিয়েছে এ যুদ্ধ। অসম যুদ্ধে ইরানের অস্তিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়লেও বিশ্ব ইতিহাসের সোনালি ঐতিহ্যের অধিকারী ইরানিরা শত্রুপক্ষের ওপর মরণ কামড় বসাতে বদ্ধপরিকর বলেই মনে হচ্ছে। তারা ইসরায়েলের পাশাপাশি আরব দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির ওপর আঘাত হেনে চলছে। দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধযুদ্ধেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

 

 

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তাঁবেদার দেশগুলোকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশও। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি তেলসহ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যা দেশের জ্বালানি আমদানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধের কারণে বাড়তে পারে জ্বালানির দামও।

 

 

বর্তমানে বিপিসির কাছে ১৫ দিনের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত থাকলেও সরকারের মূল চিন্তা এলএনজি নিয়ে। সব মিলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের হুমকিতে। আসছে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকভাবে বাড়বে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত জ্বালানি না পেলে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের শঙ্কা থেকেই যাবে।

 

 

যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও এলএনজি আমদানিকারকদের আমদানি ব্যয় বাড়বে। ফলে সরকারের ওপর বাড়বে ভর্তুকির চাপ। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধাবস্থায় জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায়, বিমা প্রিমিয়াম বেড়ে গেলে শিপমেন্ট বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে বড় ধরনের জ্বালানিসংকট তৈরি হবে। এমনিতেই জ্বালানি খাতে সরকার যে ভর্তুকি দেয় তা অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভর্তুকি আরও বাড়লে সরকারকে পড়তে হবে ত্রিশঙ্কু অবস্থায়। জ্বালানির দাম বাড়ালে প্রায় প্রতিটি পণ্যে তার প্রভাব পড়বে। জন-অসন্তুষ্টির মুখে পড়তে হবে সরকারকে। সে শঙ্কার কথা মনে রেখেই এ-সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।