কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

হরমুজ প্রণালি খুললেই উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল উৎপাদন স্বাভাবিক হবে-গোল্ডম্যান স্যাকস

[প্রকাশ: বণিক বার্তা, ২৮ এপ্রিল ২০২৬]

হরমুজ প্রণালি খুললেই উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল উৎপাদন স্বাভাবিক হবে-গোল্ডম্যান স্যাকস

পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

 

 

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেসলাইন।

 

 

ব্যাংকটির গবেষণা শাখা জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে জ্বালানি তেল উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকলেও প্রাক-যুদ্ধকালীন পূর্ণ মাত্রায় পৌঁছতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল কমেছে। এটি যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৫৭ শতাংশ কম। গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, যদি তেল খনি বা অবকাঠামোগুলোয় নতুন করে কোনো হামলা না হয় এবং কয়েক মাসের মধ্যে নৌপথটি নিরাপদভাবে খুলে দেয়া হয়, তবে দ্রুত উৎপাদন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

 

 

তবে দীর্ঘ সময় ধরে এ নৌপথ বন্ধ থাকলে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসার প্রক্রিয়াটি ধীরগতির হতে পারে। জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা মূলত নির্ভর করবে পরিবহন ব্যবস্থা এবং তেলকূপগুলোর যান্ত্রিক সক্ষমতার ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি খোলার পর প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে পাইপলাইনের সক্ষমতা এবং উৎপাদিত জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত খালি ট্যাঙ্কারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।

 

গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে খালি ট্যাঙ্কারের সক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ বা ১৩ কোটি ব্যারেল কমেছে। এছাড়া খনি সংস্কারে দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সরবরাহ নিশ্চিত করাও একটি বড় কাজ।

 

 

গবেষণা প্রতিবেদনে দ্রুত পুনরুদ্ধারের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতের তুলনায় তেল খনিগুলোয় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখন পর্যন্ত বেশ সীমিত। দ্বিতীয়ত, সৌদি অ্যারামকোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী সৌদি আরব তাদের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর ক্ষমতা রাখে। তৃতীয়ত, ইতিহাস বলে বিশ্ববাজার স্থিতিশীল রাখতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সাধারণত নিজেদের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করে।

 

 

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতীতে এ ধরনের বড় বিপর্যয়ের পর সাধারণত তিন মাসের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া উৎপাদনের ৭০ ও ছয় মাসের মধ্যে ৮৮ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করে বলেছে, এবারের সংকট নজিরবিহীন। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেল উৎপাদন সক্ষমতায় স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি করবে।