একজন উত্তম নেতার উৎকর্ষ এমন পরিস্থিতির সূচনা করে, যা প্রতিভার স্পর্শ ছাড়াও সাধারণ বোধবুদ্ধির মাধ্যমে সার্থকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব’ (The final test of a leader is that he leaves behind him in other men the conviction and the will to carry on... The genius. of a good leader is to leave behind him a situation which common sense, without the grace of genius, can deal with successfully)। এদিক থেকে বিচার করলে জিয়ার নেতৃত্ব যুগোত্তীর্ণ। এক দশক আগে তিনি যা ভেবেছিলেন, যেসব কর্মসূচি সূচনা করেছিলেন, তা সম্পন্ন করার জন্য তাঁরই সৃষ্ট নেতৃত্ব এখনো সংকল্পবদ্ধ, এখনো বিশ্বাসী। তিনি যেসব আর্থসামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করেন জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন রাষ্ট্রীয় গৌরব বৃদ্ধির জন্য, যেসব অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করেন বাংলাদেশের জন্য, এখনো তা সময়োপযোগী বাস্তব ও প্রয়োজনীয়।
কৃষির উন্নতি? এর কোনো বিকল্প আছে? এ দেশে শিল্পায়নের মাত্রা আরো উন্নত হোক। গতি আরো ত্বরান্বিত হোক। কিন্তু চাইলেই কি হবে? তার জন্য কতটুকু প্রস্তুত এ জাতি? সঞ্চয়ের হারের দিকে তাকিয়ে দেখুন। দেখুন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির জন্য বিদেশনির্ভরতার দিকে। জাতীয় বিনিয়োগকারীদের মনমানসিকতা ও আমলাতান্ত্রিকতার দিকে দৃষ্টি দিন। প্রতি বছরের বাজেটে বিরাট অঙ্ক বরাদ্দ করেও গত ২০ বছরে জাতীয় উৎপাদনে শিল্পের অবদান কী দাঁড়িয়েছে, তার মূল্যায়ন করলেই সুস্পষ্ট হবে। শিল্পের অগ্রগতির জন্যও প্রয়োজন কৃষির উন্নতি। কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে শিল্পজাত দ্রব্যের বাজারও আয়তনে বাড়বে না।
কৃষির উন্নয়নের জন্য পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন এসব উন্নয়নমূলক কর্মে যাদের জন্য উন্নয়ন, তাদের একান্তভাবে সংশ্লিষ্টকরণ। খাল কাটা বিপ্লব দুই অর্থে বিপ্লব। ভূমির উপরে পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষি খাতকে প্রাণবন্ত করা বিপ্লবাত্মক। অন্যদিক থেকে দেখলেও এ পদক্ষেপকে বৈপ্লবিক বলা চলে। খাল কাটা যেমন লক্ষ্য, তেমনি উপলক্ষও। যেমন উপেয়, তেমনি উপায়। একটি পরীক্ষিত উন্নয়ন কৌশলও বটে।
উন্নয়ন সাহিত্যের সর্বত্র বলা হয়েছে, যাদের জন্য উন্নয়ন, তাদের উন্নত করতে হবে। তাদের মধ্যে জাগ্রত করতে হবে এক দৃঢ়প্রত্যয়, এটি এক ধরনের আত্মবিশ্বাস। নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম, এমনই এক সুস্পষ্ট চেতনা। এ চেতনার সূচনা কিন্তু কোনো উপদেশের মাধ্যমে সম্ভব নয়। সম্ভব নয় ওপর থেকে বাণীবর্ষণের মাধ্যমে। তাদের সঙ্গে নিয়ে পাশাপাশি পথ চলে, তাদের ভাষায় এবং তাদেরই প্রতীক ব্যবহার করে, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্ট করে, প্রত্যেক কর্মসূচিতে তাদের অংশীদার করে অগ্রসর হলেই উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সফল হয়। বিশ্বের যে যে ক্ষেত্রে এ অসম্ভবকে সম্ভব করা হয়েছে, প্রত্যেক স্থানেই রয়েছে এ কৌশলের বাস্তব প্রয়োগ। প্রেসিডেন্ট জিয়া তা অনুধাবন করেন। তার পরই শুরু হয় তাঁর এ কর্মসূচি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে দেখেছেন। থানা, ইউনিয়ন, এমনকি গ্রাম পর্যন্ত ছুটে গেছেন।
অন্যূন তিন শতাধিক পল্লী এলাকায় সফরে যা অর্জন করেন, তা-ই তিনি বাস্তবে প্রয়োগ করতে চেয়েছেন। খাল কাটা বিপ্লবকে কেউ কেউ হালকাভাবে দেখেছেন। তাদের জন্য বলা প্রয়োজন, উপেয় হিসেবে এ কর্মসূচি যতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, উপায় হিসেবে তার চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরিদের হাতে এ কর্মসূচি এক দশক পরে আবারো প্রাণবন্ত হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব এখানে। সময় অবশ্য পাল্টেছে। সমস্যার প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়েছে। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হয়েছে। প্রযুক্তিগত দিকেরও উন্নতি হয়েছে। তাই ওই কর্মসূচির মৌল বৈশিষ্ট্য অক্ষত রেখে কিছু কিছু পরিবর্তনও প্রয়োজন। এখন কিলোমিটারের মানদণ্ডে খাল খননের মূল্যায়ন প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন এখন তার ধারণক্ষমতা। প্রয়োজন পরিকল্পিতভাবে এ কর্মসূচির বাস্তবায়ন।
অসংখ্য খাল-বিল-নদী-নালায় বাংলাদেশ। এ দেশের পানি যেমন জীবন, তেমনি মৃত্যু ও ধ্বংসেরও কারণ হয়ে ওঠে। তাই পানির সরবরাহ যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি প্রয়োজনীয় বন্যার তাণ্ডব রোধ করা। দেখা গেছে, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ বন্যার অন্যতম কারণ। তাই খাল খনন পরিকল্পনা এমনভাবে গৃহীত হতে হবে, যেন অপরিকল্পিত বাঁধের সৃষ্টি না হয়। তাছাড়া ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে আগেভাগেই নির্ধারণ করা সম্ভব কোথায় কত গভীর খাল খনন প্রয়োজন। এও সম্ভব, খালের মাটি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাঁধের সৃষ্টি। এভাবে অগ্রসর হলে ভয় কী? বাঁচবে বাংলার কৃষক বাঁচবে বাংলাদেশ। এ দেশের ঘরে ঘরে বেঁচে থাকবে শহীদ জিয়ার স্বপ্ন। তাঁর আদর্শ। তাঁর নেতৃত্বের স্পর্শে জাতি হবে চিরঞ্জীব।
নেতৃত্বের যে পরশমণি জাতীয় সমস্যা চিহ্নিত করে দীর্ঘকালীন পরিপ্রেক্ষিতে তার সমাধানে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করে, তা প্রেসিডেন্ট জিয়ার অধিকারে ছিল। ছিল তাঁর মননে, তাঁর সত্তায়, তাঁর উদ্যোগে। এ মাটির সন্তান হিসেবে মাটির কাছাকাছি থেকে তিনি অনুভব করেন, মাটি আর মানুষই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উন্নতির অর্থই এ দেশের মাটি আর মানুষকে উন্নত করা, প্রাণবন্ত করা। মাটির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধির জন্য তিনি শুরু করেন খাল কাটা বিপ্লব। মানুষের উন্নয়নের জন্য সূচনা করেন পরিবার পরিকল্পনা সমন্বিত এক কর্মসূচি, ১৯৭৬ সালে। তাঁর বুঝতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি যে, এ দেশের এক নম্বর সমস্যা অপরিকল্পিত জনসংখ্যা। তাকে গভীর গবেষণায় নিয়োজিত হতে হয়নি। এজন্য যেতে হয়নি তাঁকে জ্ঞানসমুদ্রের গভীরে। চারদিকে চোখ রেখেই অনুভব করেন, রাষ্ট্র শুধু ভূখণ্ড নয়। এ ভূখণ্ডকে সাজিয়ে গুছিয়ে এর অতীতকে ধারণ করে, ভবিষ্যতের স্বপ্নে উদ্বেল জনসমষ্টিই রাষ্ট্রের মূলকথা। তাই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর ছিল তাঁর শ্রেষ্ঠ অগ্রাধিকার।
অপরিকল্পিত জনসংখ্যা তাঁর কাছে ছিল বিশৃঙ্খলার প্রতীক। জাতীয় জীবনের অপচয়ের ছবি। তাই তিনি এ বিষয়ে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, আজো মনে হয় তা অত্যাধুনিক। তিনি ১৯৭৬ সালে গঠন করেন জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ। এ সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করে এ পরিষদকে নিয়ে এলেন স্বয়ং প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে, তাঁর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণই এর মুখ্য লক্ষ্য ছিল পরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় জনশক্তির উদ্বোধন। তাই তিনি এ প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করেন স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ বিভাগকে। সমন্বিত করেন মাতৃমঙ্গল ও শিশুমঙ্গল কর্মসূচির সঙ্গে। এ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করেন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগকে। কেন্দ্র থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত, বিশেষ করে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যন্ত, মাঠকর্মীদের পর্যায় পর্যন্ত তা বিস্তৃত হয়। পরিবার পরিকল্পনা অধিকাংশ সমাজেই চিহ্নিত হয়েছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিরূপে। জনসংখ্যার ভারে সমাজ যেন নুইয়ে পড়ছে, ভাবটা এমন। তাই জনসংখ্যাকে ছেঁটে ফেলতে হবে, প্রয়োজন হলে নির্মম প্রক্রিয়ায়।
সমাজপতিদের এ মনোভাব কোথাও কোনো সমাজে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কর্মসূচি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছে। ভারতে এ কর্মসূচি—বিশেষ করে ইন্দিরা গান্ধীর পুত্র সঞ্জয় গান্ধীর উদ্যোগে—অভ্যন্ত বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি করে। চীনে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি নিষ্ফল হয়ে ওঠে। জিয়া তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে পরিবার পরিকল্পনা হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরিবার পরিকল্পনা খাতে সর্বাধিক বরাদ্দ নিশ্চিত করেন। বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিয়ে, কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত কর্মসূচিকে প্রসারিত করে, জাতীয় পর্যায়ে এই এক নম্বর সমস্যাকে সমাধানের পথনির্দেশ করেন। পরিবার পরিকল্পনাকে সার্থক করার লক্ষ্যে তিনিই সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেন নতুন মন্ত্রণালয়। নতুন মন্ত্রণালয়টি সংশ্লিষ্ট করেন আরো ছয়টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে, যেন এটি হয়ে ওঠে বিশিষ্ট এক জাতীয় কার্যক্রম। মহিলা- বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়, জনশক্তি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর অন্যতম। আজকে বাংলাদেশে জনসংখ্যার নিম্নহার সর্বত্রই স্বীকৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এ হার তেমন উল্লেখযোগ্য না হলেও বাংলাদেশের মতো সনাতন সমাজে যা অর্জন হয়েছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ। এর যেটুকু কৃতিত্ব, তা প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রাপ্য।
আজ থেকে ২০ বা ৫০ বছর পর এ জাতির অবস্থান কোন পর্যায়ে উপনীত হবে, অগ্রগতির কোন স্তরে পৌঁছাবে, এমনকি রোগ-শোক, দুঃখ- দারিদ্র্যের ওপর আমাদের বিজয় সূচিত হবে কিনা, তা নির্ভর করছে কীভাবে শিক্ষাকে এ জাতি ধারণ করছে, প্রধানত তার ওপর। শুধু তা-ই নয়, ৫০ বা ১০০ বছর পর আমাদের উচ্চতা (প্রকৃত ও রূপক উভয় অর্থে) কেমন হবে, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি-কৃষ্টি কোন স্তরে পৌঁছাবে তাও নির্ভর করছে কীভাবে সমাজের বৃহত্তর জনসমষ্টি অশিক্ষা ও নিরক্ষরতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে, তার ওপর । তাই উন্নয়ন ও অগ্রগতির পূর্বশর্ত হিসেবে শিক্ষার ভূমিকা বিশ্বব্যাপী আজ স্বীকৃত। বিশ্বব্যাংকের ১৯৯১ সালের উন্নয়ন প্রতিবেদনে বলা “পণশক্তি উন্নয়নে সঠিক বিনিয়োগেই স্থায়ী অগ্রগতির সুদৃঢ় ভিত্তি।’
হয়েছে, এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অবস্থা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। সাক্ষরতা কিছুটা বেড়েছে বটে, কিন্তু অক্ষরজ্ঞানহীনদের সংখ্যা বেড়েছে অনেক দ্রুতগতিতে। ১৯৬১ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত সাক্ষরের সংখ্যা বেড়েছে এক কোটির নিচে, কিন্তু নিরক্ষরদের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিন কোটি।
১৯৯১ সাল পর্যন্ত এ সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন কোটি। ১৯৯০ সালের ইউনেস্কো প্রতিবেদনে যে তথ্য পরিবেশিত হয়েছে, তা সত্যই ভয়াবহ। বিশ্বের শতকরা ৪ দশমিক ৫ ভাগ নিরক্ষরই বাংলাদেশে বাস করে। এ জনসংখ্যা ভারত, চীন ও পাকিস্তানের পরই। এক দশক আগে প্রেসিডেন্ট জিয়া এ সত্য অনুধাবন করেন। প্রতি বছর এক কোটি জনসমষ্টিকে সাক্ষর করা, দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে চার কোটি ব্যক্তিকে শিক্ষার আলো দান করা, নিয়মিত ও অনিয়মিত প্রক্রিয়ায় সাধারণ শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটানো, শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে জাতীয় শক্তিকে এ খাতে প্রবাহিত করার পরিকল্পনা তিনিই সর্বপ্রথম গ্রহণ করেন। তাই বলি, যদি এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকত, জাতীয় সম্পদের বড় একটা অংশ শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা হতো, জাতীয় শক্তির সৃজনশীল অংশ যদি শিক্ষার প্রসারে সংশ্লিষ্ট হতো, তাহলে নিরক্ষরতার অন্ধকার আজকে যত গভীর হয়েছে তা হতো না। বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যেতে পারত।
নতুনভাবে আজকে পরিকল্পনা গৃহীত হচ্ছে, সবার জন্য শিক্ষা। ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, নিরক্ষরদের জন্য সাধারণ শিক্ষা আজ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃত কর্মসূচি। সঠিক নেতৃত্বের স্পর্শ পেলে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
জনসমষ্টির মধ্যে শিক্ষার আলো বিতরণ একদিক থেকে সাংবিধানিক দায়িত্বও। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে এ-সম্পর্কিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের রয়েছে সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি। গত ২০ বছরে শিক্ষা-সংক্রান্ত যেসব কমিশন বা কমিটি গঠন হয়েছে, বিশেষ করে ১৯৭৪ সালের শিক্ষা কমিশন, ১৯৭৫ সালের শিক্ষা-সংক্রান্ত জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ, ১৯৮৭ সালের জাতীয় শিক্ষা কমিশন— প্রত্যেকটির লক্ষ্য অন্তত ওই একটি ক্ষেত্রে অভিন্ন। জাতীয় অগ্রগতি যদি জাতীয় লক্ষ্য হয়, তবে শিক্ষাক্ষেত্রে কার্পণ্য কেন? জনসমষ্টিকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হলে শিক্ষার বিকল্প কী? গণকল্যাণকে মুখ্য জ্ঞান করলে গণশিক্ষা ছাড়া পথ কী? এসব প্রশ্নের সার্থক বিশ্লেষণ সম্ভব শুধু জিয়ার সৃজনমুখী প্রতিভাকে সামনে রেখে, তাঁর সুদুরপ্রসারী সুচিন্তিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রে রেখে, তাঁর নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকার করেই।
[বণিক বার্তা সংকলিত ‘কালপুরুষ: স্বাধীন বাংলা’ বই থেকে]
এমাজউদ্দীন আহমদ: সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
