কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

কৃষি উন্নয়নে সরকারের নানামুখী কর্মসূচি কতটা সফল হবে

ড. জাহাঙ্গীর আলম [প্রকাশ: বণিক বার্তা, ৩০ এপ্রিল ২০২৬]

কৃষি উন্নয়নে সরকারের নানামুখী কর্মসূচি কতটা সফল হবে

বাংলাদেশের কৃষক আবহমান কাল ধরেই অবহেলিত। তাদের আয় সীমিত। উৎপাদন কার্যক্রমে প্রণোদনা কম। খরচ বেশি। কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করার জন্য প্রায় গলদকর্ম হতে হয় কৃষকদের।

 

 

উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার সময় তারা অহরহই ন্যায্য দাম পান না। বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বেশি। অনেক সময় ভোক্তা মূল্যের অর্ধেক দামও পান না উৎপাদনকারী কৃষক। স্বাস্থ্যসেবায় তাদের কোনো প্রাধিকার নেই। বিভিন্ন রোগে ভোগে তারা একদিকে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, অন্যদিকে চিকিৎসা খরচ জোগান দিতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়ে পড়েন। অনেক সময় মাঠে কাজ করতে গিয়ে সাপের কামড়, বজ্রপাত বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন কৃষকদের অনেকে। কিন্তু এর কোনো ক্ষতিপূরণ পায় না তাদের পরিবার। বৃদ্ধ বয়সে যখন কাজে অক্ষম হয়ে পড়েন, তখন বেঁচে থাকাই তাদের দায় হয়ে যায়। আর্থিক সংকটের মধ্যে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে তাদের দিন পার করতে হয়। কৃষকদের এমন অসহায়ত্বের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিএনপি সরকার। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর পরই তারা ঋণগ্রস্ত কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিয়েছে। ভূ-উপরিস্থ পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধার্থে গ্রহণ করেছে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি। কৃষকদের সুরক্ষার জন্য চালু করেছে কৃষক কার্ড।

 

 


কৃষক কার্ড মূলত কৃষকদের শনাক্তকরণ কার্ড। এটিকে কৃষকদের জন্য মর্যাদার স্বীকৃতি ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেছেন অনেকে। এ কার্ডের মাধ্যমে ১০ প্রকার সুবিধা পাবেন একজন কৃষক। এগুলো হলো ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্যের বিক্রি সুবিধা। এ কার্ডের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্য চাষী/আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও চাষী সরকারের তথ্য ভাণ্ডারে সংযুক্ত থাকবে। এতে ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণীর কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের ক্ষেত্রে এ কার্ড বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এ কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে আড়াই হাজার টাকা নগদ দেয়া হবে।

 

 

আগের এক সরকারের আমলেও কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছিল কৃষকদের মধ্যে। কিন্তু এর তেমন কোনো ব্যবহার ছিল না। অনেক কৃষক এটি পলিথিনে মুড়িয়ে ট্রাংক অথবা আলমারিতে বন্দি করে রেখেছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে নগদ সহায়তা পেতে ব্যবহার হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র। ডিলারের মাধ্যমে তারা সার ও বীজ নিয়েছেন স্বাভাবিক নিয়মে, কোনো কার্ড ছাড়াই। এবার প্রগতিশীল হারে ভর্তুকিযুক্ত উপকরণ এবং নগদ সহায়তা নিতে হলে নতুন কৃষক কার্ড যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করতে পারে। তাছাড়া লক্ষ্যভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে কার্ডটি ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে কৃষি ঋণের প্রাপ্তি অনেকটা জামানতের ওপর নির্ভরশীল। ভূমিহীন ও বর্গাচাষীদের পক্ষে জামানত প্রদানের সুযোগ কম। সেক্ষেত্রে কৃষক কার্ডই জামানত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কৃষকদের বৃদ্ধ অবস্থায় পেনশন সুবিধা চালু করা ও সরকারি অনুদান কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্যও কৃষক কার্ড ব্যবহৃত হতে পারে।

 

 

এরই মধ্যে সরকার ফ্যামিলি কার্ডও উদ্বোধন করেছে। এর সঙ্গে কৃষক কার্ডের দ্বৈততা আছে। সরকার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর সুরক্ষার জন্য এ দুই ধরনের কার্ড ব্যবহার করছে। একটি পরিবার একই সঙ্গে উভয় কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা রাখতে পারে। ফ্যামিলি কার্ড মূলত স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য (টিসিবির মাধ্যমে) বিতরণের জন্য প্রয়োজন। অন্যদিকে কৃষি কার্ড কৃষি উপকরণ বিতরণ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও কৃষি ঋণের সুবিধার জন্য প্রয়োজন। একজন কৃষক দুটি কার্ডই ব্যবহার করতে পারেন এবং একই সঙ্গে খাদ্য ও উপকরণ সহায়তা পেতে পারেন। তবে গ্রামীণ কৃষি পরিবারগুলোর জন্য কৃষি কার্ড এবং গ্রামীণ ও শহরের অকৃষি পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হলে দ্বৈততা পরিহার করা সম্ভব। কৃষি কার্ডের মাধ্যমেই গ্রামীণ কৃষি পরিবারগুলোকে উপকরণ ও পণ্যসহায়তা দেয়া সম্ভব।

 

 

 

নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম যে প্রশংসনীয় কাজটি করে সেটা হলো ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের ১৯৯১-৯৬ মেয়াদকালে ৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল। এবার ১০ হাজার টাকা মওকুফের বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনী ইশতাহারে উল্লেখ ছিল। এ উদ্যোগে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ১ হাজার ৫৬৮ কোটির বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নেয়া ঋণের ওপর এ সুবিধা প্রযোজ্য হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারবেন, যা তাদের কর্মস্পৃহাকে বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে।

 

 

বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও কৃষি ঋণের সুদ অথবা সুদ-আসল মওকুফ করার দৃষ্টান্ত আছে। কিন্তু এটিকে সবাই স্বাগত জানায় না। তাতে এক ধরনের ঋণ পরিশোধ না করার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়ে। তার চেয়ে সঠিকভাবে ঋণের ব্যবহার এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর তারা গুরুত্ব আরোপ করেন, যাতে কৃষকদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বর্তমানে মোট প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের মাত্র ২ শতাংশ কৃষিতে দেয়া হয়। মোট কৃষি পরিবারের মাত্র ২২ শতাংশ ওই প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের আওতায় এসেছে। এর পরিসর বাড়ানো দরকার।

 

 

নতুন সরকারের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ খাল-নদী খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল-বিল খনন বা পুনঃখনন করে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানো। শুষ্ক মৌসুমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ ও বৃষ্টির পানি ধরে রেখে কাজে লাগানো এর প্রধান উদ্দেশ্য। এ কর্মসূচি স্থানীয় কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

বাংলাদেশে মোট সেচ এলাকা ৯৭ দশমিক ৯০ লাখ হেক্টর। মোট আবাদি জমির প্রায় ৭৪ শতাংশ সেচের আওতাভুক্ত। এর মধ্যে ৭১ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে সেচ দেয়া হয়। তার ১৮ দশমিক ১৩ শতাংশ গভীর নলকূপের মাধ্যমে এবং ৫৩ দশমিক ৩০ শতাংশ অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচকাজ সম্পন্ন করা হয়। ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে সেচ দেয়া হয় ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ জমিতে। এর মধ্যে এলএলপি ব্যবহার করা হয় ২৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ জমি সেচ দেয়ার জন্য। চিরায়ত স্থানীয় পদ্ধতিতে সেচ দেয়া হয় ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ জমিতে। পানি সেচের ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির বিপুল ব্যবহারের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এখন নলকূপের পাম্প দিয়ে প্রয়োজনীয় পানি উঠে আসছে না। তাতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণের জন্য গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ নদী বর্তমানে নাব্য হারিয়েছে। অনেক স্থানে চড়া সৃষ্টি হয়েছে। খালগুলো ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেক খাল দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। তাতে পানি সেচ ও নিষ্কাশন হুমকির মুখে পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ফসল বিনষ্ট হচ্ছে। এর প্রতিকার দরকার।

 

 

 

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির সূত্রপাত হয় ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার রহমানের উদ্যোগে। পরবর্তী ছয় বছর নাগাদ প্রায় পৌনে ৬ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়। তার ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর। ১৯৮১ সালে দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভর বলে ঘোষণা করা হয়। ওই বছর ১০ হাজার টন চাল বিদেশে রফতানি করা হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে পরিচালিত উলশি যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্প বাংলাদেশের কৃষির ইতিহাসে এবং স্থানীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তিনি যশোরের শর্শা উপজেলার উলশি যদুনাথপুর এলাকায় এ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। এটি ছিল স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির প্রথম প্রকল্প। এরপর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় স্বেচ্ছাশ্রমে ব্রহ্মপুত্র নদ পুনঃখনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হয়েছিল ময়মনসিংহে। অবশ্য ১৯৮২ সালে সরকার পরিবর্তনের পর স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচিতে ভাটা পড়ে। এক পর্যায়ে স্বনির্ভর কর্মসূচি বাতিল হয়ে যায়।

 

 

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে খাল-নদী খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে তাতে স্বেচ্ছাশ্রমের উপকরণ থাকতে পারে। এ কর্মসূচির প্রতি জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়বে। তবে বৃহত্তর পরিসরে এর সাফল্য নির্ভর করবে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের ওপর। তাতে কর্মসংস্থান বাড়বে। গরিব খেটে খাওয়া মানুষের আয়ের পথ সুগম হবে। তাদের দারিদ্র্য লাঘব হবে। এক্ষেত্রে সরকারি অর্থ খরচের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শীতকালে যে খালগুলো খনন করা হয়, বর্ষার শুরুতে তা যেন পাড় ভেঙে ভরাট হয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। দখল করা নদী ও খালগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে। স্থানীয় গরিব জনগণকে সম্পৃক্ত করে নদী ও খালের পারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। মৎস্য ও হাঁস প্রতিপালন উৎসাহিত করে সমম্বিত কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাতে অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক সম্ভারে ভরে উঠবে স্থানীয় খাল-বিল ও নদী-নালাগুলো।

 

 

বাংলাদেশ বর্তমানে কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও সার সংকটের কারণে এখানেও কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারের বোরো ধানের উৎপাদন সাড়ে ৭ শতাংশ কমবে। তাতে খাদ্যশস্যের দাম বেড়ে যাবে, যা খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে। এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তী আউশ ও আমন ধান উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। রবিশস্য উৎপাদনের জন্য আগে থেকেই পর্যাপ্ত উপকরণ সরবরাহের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। এর জন্য কৃষি খাতে ভর্তুকি ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কৃষকদের জন্য সমন্বিত সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তাদের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হবে। পেশা হিসেবে কৃষিকে লাভজনক ও সম্মানজনক করে গড়ে তুলতে হবে। একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কৃষি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নতুন বছরে নতুন সরকারের সব কৃষিবান্ধব উদ্যোগের সাফল্য কামনা করছি।

 

 

ড. জাহাঙ্গীর আলম: একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ। সাবেক উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (ইউজিভি) এবং সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)