কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ২৪তম

কাশফিয়া আলম ঝিলিক , ঢাকা [সূত্র : আজকের পত্রিকা, ১৪ জানুয়ারি ২০২৫]

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ২৪তম

লৈঙ্গিক সমতা শুধু একটি সামাজিক আদর্শ নয় , এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি । ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৫ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জানিয়েছে , বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক বৈষম্য বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ দূর হয়েছে । তবে বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে পূর্ণ সমতা অর্জনে বিশ্বকে আরও ১২৩ থেকে ১৩১ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ; বিশেষ করে এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমতার এই চিত্র অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও চ্যালেঞ্জিং । এশিয়ায় লৈঙ্গিক সমতার বর্তমান অবস্থান এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পারফরম্যান্স বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশ ভিন্ন । পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ সমতা অর্জন করে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে । স্বাস্থ্য ও জীবনধারণের ক্ষেত্রে ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ স্কোর নিয়ে এই অঞ্চল তালিকার তলানিতে অবস্থান করছে ।

 

 

 বিশেষ করে ভিয়েতনাম , চীন , ব্রুনেই দারুসসালাম ও পাপুয়া নিউগিনিতে জন্মের সময় লৈঙ্গিক অনুপাতের বৈষম্য এই স্কোরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে । রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ স্কোর নিয়ে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে । ২০০৬ সাল থেকে রাজনৈতিক গ্যাপ ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমলেও অগ্রগতির হার ধীর ও অসম । ২০২৫ সালে শুধু নিউজিল্যান্ড রাজনৈতিক সমতায় ৫০ শতাংশ অতিক্রম করতে পেরেছে । যেখানে জাপান , কম্বোডিয়া , মালয়েশিয়া , ব্রুনেই , ফিজি ও ভানুয়াতু ১০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে । যদিও আমরা দেখেছি , জাপান রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে গত বছর ।

 

 

 

তবে এই অঞ্চলের দিকে তাকালে এখানে ১৯ টি দেশের মধ্যে ৯ টিতে এখনো কোনো নারী রাষ্ট্রপ্রধান দায়িত্ব পালন করেননি । মধ্য এশিয়ার দিকে তাকালে দেখা যায় , ৬৯ দশমিক ৮ শতাংশ স্কোর নিয়ে অঞ্চলটি চতুর্থ স্থানে আছে । আর্মেনিয়া ও জর্জিয়া হলো এই অঞ্চলের শীর্ষ দেশ । তবে সেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের হার মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ , যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন । দক্ষিণ এশিয়ার স্কোর ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ । বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে এই অঞ্চল রয়েছে । এই অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান ২৪ তম । বাংলাদেশ একমাত্র দেশ , যেটি শীর্ষ ৫০ - এর মধ্যে স্থান পেয়েছে । মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ স্কোর নিয়ে তালিকার সর্বনিম্ন স্থানে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অঞ্চলে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে । সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান ৩২ তম । দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশ পুরো দক্ষিণ এশীয় ব্লকের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ ‘ রাষ্ট্রপ্রধান ’ পর্যায়ে পূর্ণ লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করেছে । অন্যদিকে , ভুটান ও মালদ্বীপে সংসদীয় সমতার হার এখনো ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে । ২০২৫ সালের অঞ্চল মধ্য এশিয়া

রাজনৈতিক নেতৃত্ব ( বাংলাদেশ )

 

 

অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও আয়বৈষম্য

 

 

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নজিরবিহীন ৭৫ ধাপ উন্নতি করে ২৪ তম স্থানে উঠে এসেছে । শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রায় ৯৫ শতাংশ বৈষম্য দূর করতে সক্ষম হয়েছে । সাফল্য সত্ত্বেও বাংলাদেশে শ্রমঘন কাজে নারীর অংশগ্রহণ কমছে এবং নারী - পুরুষের আয়বৈষম্য আগের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বেড়েছে । এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি একটি বড় উদ্বেগের বিষয় । এই সময় পুরো দেশ তাকিয়ে আছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে । সেই নির্বাচনের পর থাকছে সম্ভাবনা এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের রাস্তা । শিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার গড় হার ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশ । তবে এখানে ব্যাপক বৈষম্য বিদ্যমান । মালদ্বীপে পূর্ণ সমতা থাকলেও নেপাল ও পাকিস্তানে সাক্ষরতার হার ৭৫ শতাংশের নিচে । স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে জন্মের সময় লৈঙ্গিক অনুপাতের অবনতি এই অঞ্চলের অগ্রগতির পথে অনেকটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে । এশীয় অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ,

 

 

নেতৃত্ব ও সংকট

পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের স্কোর ৭১ দশমিক ৬ শতাংশ । এটি বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ । কম্বোডিয়ায় নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি । তবে একটি বড় বৈষম্য দেখা গেছে শিক্ষার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে । যদিও এশিয়ায় নারীরা উচ্চশিক্ষায় পুরুষদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে , তবু উচ্চপদস্থ

 

 

ব্যবস্থাপক পদে মাত্র ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ নারী কাজ করছেন । জনতাত্ত্বিক উপাত্তে এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এক অদ্ভুত চিত্র দেখা গেছে । হংকংয়ে প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা মাত্র ৮৬ জন । এই ভারসাম্যহীনতা ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও সামাজিক কাঠামোতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে । এশিয়ায় দ্রুততম সময়ে সমতার দিকে এগিয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উল্লেখযোগ্য । তবে এখানে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের গ্যাপ বিশ্বব্যাপী মাত্র ২২ দশমিক ৯ শতাংশ । এটি পূরণ না হলে এশিয়ায় সমতার সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব নয় । আইসল্যান্ডের মতো এশিয়ার দেশগুলোকেও এখন ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট ও কেয়ারগিভার সাপোর্টের মতো নীতিমালায় আরও জোর দিতে হবে । 

 

 

তথ্যসূত্র : ১. গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৫ : ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ( ডব্লিউইএফ ) । ২. আঞ্চলিক ডেটা : পূর্ব এশিয়া , মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার ওপর ডব্লিউইএফের বিশেষ বিশ্লেষণ । ৩. বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ২০২৫ সালের তথ্য । ৪. জনসংখ্যা উপাত্ত : দেশভিত্তিক নারী ও পুরুষের অনুপাতসংক্রান্ত ডেটা সেট ( ২০২৬ প্রজেকশন ) ।