কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

নির্বাচনী ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব

ড. মিহির কুমার রায় [প্রকাশিত: জনকণ্ঠ, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬]

নির্বাচনী ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু গত দেড় বছরে দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে লক্ষণীয় গতিশীলতা আসেনি। রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। একইসঙ্গে নির্মাণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান সূচকে প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকছে শেয়ারবাজার। বাজেট বাস্তবায়নের গতিও আশানুরূপ নয়। এমন অবস্থার মধ্যেই দোরগোড়ায় এসে গেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

 

 

এ প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর নতুন সরকার কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তখন বিনিয়োগ ও সরকারি ব্যয় বাড়বে। শিল্প খাত চাঙ্গা হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারও বাড়বে। উন্নতি ঘটবে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে নিলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতি বাড়বে। নির্বাচিত সরকার না থাকায় সরকারের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রগতি নেই।

 

 

বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস, জানুয়ারি ২০২৬

 

 

বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস, জানুয়ারি ২০২৬’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি মিশ্র চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে যেমন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি শ্লথ হওয়ার নেতিবাচক খবর রয়েছে, অন্যদিকে তেমনি কাঠামোগত সংস্কার ও নির্বাচনের পর স্থিতিশীলতা ফিরে এলে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানিও রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো যখন স্থিতিশীলতার ওপর ভর করে তাদের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। এর ফলে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যে বড় বাধা, তা এই পূর্বাভাসে প্রমাণিত। তবে আশার আলো একেবারেই নিভে যায়নি।

 

 

বিশ্বব্যাংক মনে করছে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর হলে এবং নতুন সরকার কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। তখন জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে শিল্প খাতের পুনরুজ্জীবন, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের প্রসার। অবশ্য অর্থনীতির স্বস্তির জায়গা হলো টাকার বিনিময় হারের আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা। ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি যেখানে চাপে রয়েছে, সেখানে বাজারভিত্তিক নীতির কারণে বাংলাদেশের মুদ্রা বেশ ভালো অবস্থানে আছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও শুল্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনা রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, যা উদ্বেগের বিষয়।

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনী ব্যয়

 


 
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আশা করা হয়েছিল অর্থনীতিকে চাঙা করে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোরালো পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপই নিতে পারেনি। বিনিয়োগ সম্মেলন, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েও কোনো সাফল্য আসেনি। উল্টো চলমান কারখানাগুলো সচল রাখতে সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগে করেছেন উদ্যোক্তারা। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে চালু কারখানা বন্ধের নজিরও রয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে  ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তারপর রোজা ও ঈদের আগমন হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা।

 

 

এরপর থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত খরচ আরও বাড়বে। চাঙ্গা হবে অর্থনীতিও। এবারের নির্বাচনে যেসব আসনে ভোটার আড়াই লাখের মধ্যে ওইসব আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। এর বেশি ভোটার হলে ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হারে খরচ করতে পারবেন। কোনো আসনের ভোটার ৪ লাখ হলে তিনি ৪০ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ১৩ কোটি (১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন)। ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা হিসাবে ১৩ কোটি ভোটারের জন্য ৩০০ প্রার্থীর মোট ব্যয় হবে ১৩০ কোটি টাকা। এ হিসাবে ৩০০ আসনের একজন করে প্রার্থীর খরচ হবে ৪৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ৫০০ জন হলে মোট খরচ হবে ১ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। এটি শুধু কাগজ-কলমের হিসাব।

 

 

বাস্তবে খরচ হবে আরও কয়েকগুণ বেশি। এর বড় অংশই খরচ হবে কালো টাকা থেকে। কারণ, দেশের মোট জিডিপির সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশ রয়েছে কালো টাকা। এ হিসাবে কালো টাকার পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ কোটি টাকা। এই নির্বাচনী ব্যয় সবটাই যাবে অনুৎপাদনশীল খাতে, যা আমাদের মতো দারিদ্র্য আয়ের দেশের একটি বড় সমস্যা।

 

 

মূল্যস্ফীতিতে নির্বাচনী ব্যয়ে প্রভাব

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গড় মূল্যস্ফীতি এক অঙ্কের ওপরে অবস্থান করছে। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, সবজি ও মাছ-মাংসের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমুখী। অন্যদিকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে ভোক্তার ওপর। বাজারে প্রতিদিনের কেনাকাটায় এই বাস্তবতা স্পষ্ট হলেও মজুরি কাঠামোতে তার প্রতিফলন নেই। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকাশিত ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক, জানুয়ারি ২০২৬’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 

 

এখানে আরও দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে মজুরির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা নভেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ, যে হারে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে সে হারে মজুরি বা আয় বাড়েনি। বেসরকারি খাতের বড় একটি অংশে এখনো আগের বছরের মজুরি কাঠামো বহাল আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত বা নামমাত্র পর্যায়ে রাখা হয়েছে। তৈরি পোশাক, ক্ষুদ্র শিল্প, পরিবহন, হোটেল-রেস্তরাঁ ও খুচরা ব্যবসার শ্রমিকদের আয় কার্যত স্থির। সরকারি চাকরিতেও সর্বশেষ বেতন কাঠামোর পর থেকে সময় গড়ালেও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোনো স্বয়ংক্রিয় সমন্বয় ব্যবস্থা নেই। ফলে বাস্তব মজুরি কমেছে, যদিও কাগজে-কলমে বেতন অপরিবর্তিত।

 

 

গ্রামাঞ্চলেও চিত্র ভিন্ন নয়। কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি, সেচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য অনেক সময় নিশ্চিত হচ্ছে না। দিনমজুর ও মৌসুমি শ্রমিকদের মজুরি কিছু ক্ষেত্রে সামান্য বাড়লেও তা মূল্যস্ফীতির তুলনায় নগণ্য। শহরমুখী শ্রমিকদের আয় স্থির থাকায় গ্রামীণ অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। সব ধরনের চালের দাম কিছুটা কমলেও খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব এখনো বড়। ডিসেম্বর মাসে চালের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমেছে, যা নভেম্বরে ছিল ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ। মাঝারি, সরু ও মোটা- সব ধরনের চালের দামেই সামান্য শীতলতা দেখা গেছে। তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে চালের অবদান নভেম্বরের ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে কমে ৩৭ দশমিক ৩৪ শতাংশে নেমেছে।

 

 

এর বিপরীতে মাছ ও শুঁটকি মাছের দাম বেড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। ডিসেম্বর মাসে মাছ ও শুঁটকির অবদান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশে। ডিসেম্বর মাসে সবজির নেতিবাচক অবদান আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ২০ দশমিক ৩৩ শতাংশে। অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে উচ্চ সুদের হার ভোক্তা ঋণকে ব্যয়বহুল করে তুলেছে। অনেক পরিবার আগের ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। নতুন করে ঋণ নেওয়ার সক্ষমতাও কমেছে। এতে ভোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও ঝুঁকি।

 

 

নতুন সরকারের দায়বদ্ধতা

এখন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন যে সরকার গঠিত হবে তার সামনে বহুমুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে চড়া মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে আনা, বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প খাতকে চাঙা করতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়াও রয়েছে ঋণের সুদহার কমানো, ডলারের জোগান বাড়িয়ে টাকার মান ধরে রাখা, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো, রাজস্ব আয় বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রপ্তানি বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, চলমান সংস্কার এগিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। প্রবাদ আছে, ‘বাজারে পণ্যের দাম বাড়ে, জনগণের কাছে সরকারের দাম কমে।’ বাজারের যন্ত্রণা থেকে ভোক্তাকে স্বস্তি দিতে হবে। বিগত সরকারের বেশিরভাগ সময়ই বাজার যন্ত্রণায় ভুগেছে ভোক্তা।

 

 

ভোক্তার আয় কমেছে, খরচ বেড়েছে। ফলে সঞ্চয় ভেঙে ও ঋণ করে জীবিকা নির্বাহ করেছে। এখনো স্বস্তিতে নেই ভোক্তা। ফলে নতুন সরকারকে পণ্যের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে হবে। যেটি খুবই চ্যালেঞ্জিং। পাশাপাশি রয়েছে আইএমএফের সঙ্গে দর কষাকষির মাধ্যমে দেশের মানুষের অনুকূলে পদক্ষেপ নেওয়া। যেহেতু ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকার আসবে তাদের সঙ্গেই আলোচনা করে চলমান সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আদায় করে ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় করতে চায়। তাদের অন্যতম শর্ত হচ্ছে, ডলারের দাম বাড়ানো, টাকার মান কমানো। এটি করলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। ফলে ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতাও হ্রাস পাবে। যা ভোক্তাকে চাপে ফেলবে। জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে, ভর্তুকি কমাতে হবে। এটি করলে ভোক্তার ব্যয় বাড়বে, মূল্যস্ফীতিতে চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ও বিক্রি কমাতে হবে।

 


বিগত সরকারের সময়ে অর্থ এখন খেলাপি হচ্ছে, যা বেড়ে ৬ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকায় ছাড়িয়েছে। বাড়তি খেলাপির কারণে ব্যাংক খাতের সব সূচক নি¤œমুখী হচ্ছে। খেলাপির চাপ কমানো হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, বাড়তি খেলাপি ঋণের কারণে আন্তর্জাতিক ঋণ মান যাচাইকারী সংস্থাগুলো বাংলাদেশের রেটিং কমিয়ে দিতে পারে। বৈদেশিক ব্যবসার ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংকগুলো গ্যারান্টি ফি বা চার্জ আরোপ করতে পারে। এতে ব্যবসা খরচ আরও বেড়ে যাবে। তাই অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তা থেকে টেনে তুলতে হলে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।

 

 

বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির যে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্জিত হবে না। এর জন্য প্রয়োজন নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করা। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের প্রধান এজেন্ডা হতে হবে কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রমকে বেগবান করা। ভুলে গেলে চলবে না, সংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা না গেলে এই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেবে না। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা এবং জাতীয় ঐকমত্য এখন সময়ের দাবি।

 


লেখক  : অধ্যাপক ও গবেষক, সাবেক ডিন, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা