কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি : টেকসই উন্নয়নের বদ্বীপ-মডেল

ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান [প্রকাশ : দেশ রূপান্তর, ১৫ মার্চ ২০২৬]

ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি : টেকসই উন্নয়নের বদ্বীপ-মডেল

জাতিসংঘের উদ্যোগে ‘The World Commission on Environment and Development : Our Common Futu ’ রিপোর্টে উপস্থাপিত উন্নয়নের ধারণাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যথাক্রমে ৮টি ও ১৭টি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দুটি বৈশ্বিক উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে : (১) সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (Millennium Development Goals- MDGs) ও (২) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (Sustainable Development Goals-SDGs)। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হয় এর পথচলা। ২০০০ সালে ১৫ বছর মেয়াদি MDGs এবং পরবর্তী সময় ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১৫ বছর মেয়াদে SDGs লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

 

 

 ১৯ দফা কর্মসূচি হচ্ছে, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান কর্র্তৃক ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল প্রদত্ত একটি রাজনৈতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি। জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করেন ৩০ মে ১৯৮১ সালে। তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা ও এর বাস্তবায়ন শুরু করেন MDGs ও SDGs-এর ঘোষণার যথাক্রমে প্রায় ২০ বছর ও ৩৪ বছর আগে। লক্ষণীয় যে, কয়েক যুগ আগে জিয়া ঘোষিত ১৯ দফার সঙ্গে MDGs ও SDGs ঘোষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো অনেকাংশেই অভিন্ন কিংবা সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন জিয়া প্রস্তাবিত ১৯ দফার ষষ্ঠ দফায় বলা হয়েছে, কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। এই দফাটি MDGs-এর ১ম দফা ও SDGs SDGs -এর ১ম ও ২য় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে অভিন্ন।

 

জিয়া প্রস্তাবিত পঞ্চম দফায় বলা হয়েছে, কৃষির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে গ্রামীণ ও জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তার এই দফাটি MDGsএর ৭ম উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং SDGs -এর ৭ম, ৮ম ও ১৫তম উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এভাবে গভীর পর্যবেক্ষণে পরিলক্ষিত হয় যে, জিয়া প্রস্তাবিত ১৯ দফা কর্মসূচির ষষ্ঠ, ৯ম, দশম, একাদশ, ১৬তম ও ১৯তম দফার সঙ্গে এমডিজির যথাক্রমে ১ম, ২য়, চতুর্থ, ষষ্ঠ তৃতীয় এবং অষ্টম উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি জিয়া প্রস্তাবিত ১৯ দফা ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ, ১৬তম ও ১৯তম দফার সঙ্গে যথাক্রমে MDGs-এর ১ম, ২য়, দশম, একাদশ, ৪র্থ, ৩য়, ৫ম, ৯ম, ১৭তম ও ১৬তম উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উন্নয়ন নীতিবিদ্যার একজন গবেষক হিসেবে এক্ষেত্রে যে জিজ্ঞাসাটি আমাকে বিস্মিত ও আকৃষ্ট করেছে তা হচ্ছে, জাতিসংঘ কর্র্তৃক বৈশ্বিক উন্নয়ন (টেকসই) ভাবনা উপস্থাপনের একাধিক যুগ পূর্বে জিয়া কীভাবে উন্নয়ন সম্পর্কে এতটা সচেতনতা ও ১৯ দফা (উন্নয়ন) কর্মসূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।

 

 

 আমার বিবেচনায়, জিয়ার মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো প্রভাব তৈরি করেছে, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো, স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার যথাযথ অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণে নজিরবিহীন ব্যর্থতার কারণে ঘটে যাওয়া ১৯৭৪-এর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (যাতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ অনাহারে প্রাণ হারিয়েছেন)। অন্যদিকে MDGs ও SDGs-এর উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে জিয়ার ১৯ দফায় উল্লিখিত অনেকগুলো দফার অভিন্নতা ও সামঞ্জস্য প্রমাণ করে, তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের তথা মুক্তির রূপকার। উন্নয়নের ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি এই বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সচেতন ছিলেন যে, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ (Delta) ভূখন্ড। বাংলাদেশের ভূবৈচিত্র্য ((geodiversity) ও বাস্তুব্যবস্থা (ecosystem) বিশ্বের অন্যান্য (অধিকাংশ) ভূখণ্ড থেকে আলাদা। তাই এই বাস্তুব্যবস্থাগত ভিন্নতা ((ecological otherness) তথা ব-দ্বীপের জলাভূমি-সভ্যতা (wetland civilization) বিবেচনায় রেখেই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধরন ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করার কোনো বিকল্প নেই।

 

 


ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, পঞ্চম দফায় বলা হয়েছে কৃষির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে গ্রামীণ ও জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণই করেননি বরং বাস্তবায়ন করেছেন। এই দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি বীজ অর্ডিন্যান্স ১৯৭৭ (জুলাই) প্রণয়ন করেন। তার ভাবনায় ছিল ‘ভালো বীজ মানে ভালো ফসল’। বীজের পূর্বে ফসলের প্রধান অনুষঙ্গ হলো সেচ। কিন্তু বদ্বীপ অঞ্চল হিসেবে, বাংলাদেশের চাষ উপযোগী অধিকাংশ জমি/ভূমি পানিতে তলিয়ে যায় এবং শুকনো মৌসুমে খরার কারণে পানির অভাব দেখা দেয়। পঞ্চম দফায় উল্লিখিত নীতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিদ্যমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যেই জিয়া ‘খাল খনন কর্মসূচি’ গ্রহণ করেন। এতে করে শুকনো মৌসুমে খালের সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে সেচের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে এবং বন্যার সময় খালগুলো অতিরিক্ত পানি ধারণ করে কৃষকের ফসলের জমি, বাড়িঘর ও গবাদি পশু রক্ষা করতে সাহায্য করেছে। তা ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকি রয়েছে। খাল খনন কর্মসূচি ভূ-উপরস্থ পানির অভাব দূর করে এই ঝুঁকি কমাতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মাত্র দেড় বছর সময়ের মধ্যেই প্রায় ১৫ শতাধিক খান খনন করা হয়। পাশাপাশি তিনি কৃষি উপকরণ বিতরণ ব্যবস্থায় সংস্কার এনেছিলেন। কৃষি কর্মে ব্যবহৃত উপকরণ তথা যন্ত্রপাতির বিতরণের নিয়ন্ত্রণ ছিল সে সময়ে কিছু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অধীনে (যেমন পি ডব্লিউ ডি, ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের নিয়ন্ত্রণ ছিল)।

 

 

 তিনি লক্ষ্য করলেন যে, কৃষকরা কৃষি যন্ত্রপাতির বিদ্যমান বিতরণ ও সংগ্রহের ব্যবস্থা দ্বারা উপকৃত হচ্ছেন না। প্রযুক্তিগুলো কৃষকদের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য তিনি কৃষি উপকরণের ব্যবসার ক্ষেত্রে উদারণীকরণ নীতি অনুসরণ করেন। মাত্র দু-তিন বছরের মধ্যেই প্রযুক্তিগুলো কৃষকদের কাছে পৌঁছে যায় এবং দেশে এর ইতিবাচক ফলাফল দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধান উৎপাদন ১৯৭১-৭৫ সালে ছিল ১.১ মিলিয়ন টন, জিয়ার শাসনামলে তা ১৩.৬৭ মিলিয়ন টনে উন্নীত হয়েছিল। তার এই ইতিবাচক উদ্যোগের ফলাফল দেশবাসী অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি যুব উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। গঠন করেন যুব মন্ত্রণালয়। জেলায় জেলায় যুব উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করেন।

 

 

 

বেকার যুব সমাজকে অর্থনীতিক উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে হাঁস-মুরগি পালন, জলাশয়গুলোতে মাছ চাষসহ নানা ধরনের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে গ্রামবাংলায় কৃষি অর্থনীতির বুনিয়াদ স্থাপন করেন। বিদ্যুৎ দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের অন্যতয় প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচ্য। ১৯৭৭ সালের অক্টোবর মাসে তিনি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন, যা কৃষি উৎপাদনে প্রভূত উন্নতি সাধনে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। বিসিআইসি নামক প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও দেশের অভ্যন্তরে সার কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক বিপ্লব ইতিবাচক ধারা সৃষ্টি করছেন। আশুগঞ্জ সরকারখানায় ৫ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদনে সক্ষম হয়। এটি SDGs-এর অষ্টম লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

 

 

 


১৯৭৭ সালে প্রেসিডেনসিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে তিনি চা বোর্ড গঠন করেন। শুধু তাই নয়, তার আমলে গম উৎপাদন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পায়, যা চালের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করে। ১৯৮০ সালের ২৯ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ে তিনি গম গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেন। দেশে ১৯৭৫ সালে গমের উৎপাদন ছিল দশমিক ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন। তার সময় উৎপাদন বৃদ্ধি হয়ে উন্নীত হয়েছে ১ মিলিয়ন মেট্রিক টনে। বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা দেন, যা ক্ষুধা-দারিদ্র্য নিরসনে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

 

 

 এটি SDGs-এর প্রথম ও দ্বিতীয় লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কৃষির পাশাপাশি গ্রামভিত্তিক সরকার ব্যবস্থা প্রত্যাবর্তনের ওপর গুরুত্ব আরোপ জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন মডেলের অন্যতম আরেকটি দিক। তথাকথিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চক্রে আটকে যাওয়া বিশ্বব্যবস্থায় মানুষ আজ পরিবেশ সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। ইউরোপে সম্প্রতি স্থানীয় প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা ও সামাজিক বন্ধন পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন যুগ আগে জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামের জনগণকে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকা- সম্পৃক্তকরণ এবং সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনের মিল রয়েছে।

 

 

 

 তিনি গ্রামাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান ও গ্রামোন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) গঠন করেন। গ্রামাঞ্চলে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি বন্ধ করার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছেন। হাজার হাজার মাইল রাস্তাঘাট নির্মাণ করেছেন। এটি SDGs-এর এগারোতম লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জনশক্তি রপ্তানি, তৈরি পোশাক, হিমাহিত খাদ্য, হস্তশিল্পসহ সব অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার প্রদর্শিত পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ আজ দুর্নীতিগ্রস্ত ও কর্র্তৃত্ববাদী শাসনের কবলে পড়ে শত সহস্র সমস্যায় জর্জরিত।

 

 

 


জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা এখন বছরে প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে শ্রম দিচ্ছেন। প্রবাসী শ্রমিকরা প্রতি বছর এখন দেশে পাঠাচ্ছেন ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা ছিল জিয়ার হাতে গড়া এক অতুলনীয় অর্থ উপার্জন ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ঋণ করে উচ্চ ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। উচ্চ সুদে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ নিয়েছে, যার বেশিরভাগ সুবিধাভোগী দেশি-বিদেশি কিছু গোষ্ঠী। সেগুলোর পরিশোধের জন্য একদিকে যেমন চাপ আসছে, অন্যদিকে নানাভাবে অর্থ পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি রিজার্ভ সংকট তৈরি করেছে। এর থেকে উদ্ধারের কথা বলে আইএমএফের কাছ থেকে বহু রকম শর্ত মেনে ঋণ নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

আইএমএফ এই ঋণ দেবে তিন বছরে অনেক শর্ত বাস্তবায়ন করার পর। অথচ এই পরিমাণ অর্থ প্রবাসীরা প্রায় প্রতি দুই মাসেই দেশে পাঠাচ্ছেন। সরকারের স্বস্তির জন্য এই ঋণ পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অর্থনীতিতে উৎপাদন ব্যয় পরিবহন ব্যয় ও জীবনযাত্রার ব্যয় সবই বেড়েছে। কর জিডিপি বাড়াতে জনগণের ওপর জল সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কিন্তু যাদের হাতে দেশের আয় ও সম্পদের বৃহদাংশ, তারা প্রকৃতপক্ষে কর জালের বাইরে। জনগণের কাছ থেকে কর, শুল্ক সারচার্জ বা বর্ধিত দাম আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারের সাধারণত কোনো ব্যর্থতা নেই। করজাল সম্প্রসারণ করতে গিয়ে করযোগ্য আইনে তাদের ওপরও ২০০০ টাকা কর আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ সরকারকে যে কর শুল্ক দেয় তা গত ১৪ বছরে ৮ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

এই নজিরবিহীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় জিয়ার সফলতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এটি ঝউএং-এর নবম লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কেন্দ্র বা সিরডাপ হলো গ্রামীণ উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বাংলাদেশ-ভিত্তিক একটি আন্তঃসরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। (শেষাংশ আগামীকাল)