কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

ভূরাজনীতি : চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধে যে ঝুঁকিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জাহিদ হোসেন [আপডেট: বণিকবার্তা, ৬ মার্চ ২০২৬]

ভূরাজনীতি : চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধে যে ঝুঁকিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা

সম্প্রতি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও খার্গ দ্বীপের তেল ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা পরিচালনা করে। এ হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইরানও হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে।

 

 

এ সিদ্ধান্তের প্রভাব জ্বালানি তেলের বাজারে প্রত্যক্ষভাবে পড়েছে। বাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ হামলার পর গত শুক্রবার ডব্লিউটিআই ক্রুড (অপরিশোধিত) তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৬৭ দশমিক শূন্য ২ থেকে বেড়ে ৭১ দশমিক ৪৯ ডলারে চড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৮১ দশমিক ৫৭ ডলারে পৌঁছে। পেট্রল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিবর্তিত বৈশ্বিক বাণিজ্যিক সংকটের প্রাথমিক সংকট হিসেবেই এগুলোকে বিচার করতে হবে। ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি সমুদ্রপথে পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ পথ দিয়ে দৈনিক প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করা হয়। বিশ্বের সরবরাহের ২২ শতাংশ এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। অনেক দেশের জন্য এটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মনে হলেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের মেরুদণ্ডই বলতে হবে হরমুজ প্রণালিকে।

 

 
 
 
 
 
 
 

একই সঙ্গে আমদানির উৎস এবং বাণিজ্যপথও ঝুঁকিপূর্ণ। কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বছরে ৪০ কার্গো এলএনজি আসে, যার পুরোটাই হরমুজ প্রণালি দিয়েই বাংলাদেশে আসে। একই পথ দিয়ে সৌদি আরামকো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি থেকে অপরিশোধিত তেল আসে। ওমানের ওকিউ ট্রেডিং উপসাগরীয় বন্দর থেকে এলএনজি ও অপরিশোধিত তেলজাতীয় পণ্য সরবরাহ করছে। বাংলাদেশ উপসাগরীয় উৎপাদকদের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছ থেকে স্পট মার্কেটেও এলএনজি কেনে। হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটলে শুধু দামই বাড়ে না, চালানও বন্ধ হয়ে যায়।

 

 

 

 এরই মধ্যে আমরা জানতে পেরেছি যে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অংশ হিসেবে চার কার্গো এলএনজি আসার কথা থাকলেও যুদ্ধের ডামাডোলে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে এখন আমাদেরকে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ মূল্যে আরো চার কার্গো কিনতে হবে, এমন সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। বাংলাদেশ প্রায় সম্পূর্ণরূপে আমদানীকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, অথচ দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের কিয়দাংশই বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন মাত্র ৮৫০-৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ হারে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদনে ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আপৎকালীন জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা সীমিত হওয়ার কারণে যে কোনো বাহ্যিক ধাক্কাই সরাসরি বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি করে জ্বালানি নিরাপত্তা বিপন্ন করতে পারে।

 

দেশের বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশ গ্যাসভিত্তিক। রফতানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে টেক্সটাইল খাত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। দেড় হাজারের বেশি টেক্সটাইল কারখানা উৎপাদনে গ্যাস ব্যবহার করে। প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৬০ শতাংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেড় হাজারের বেশি বস্ত্রকল প্রসেস-হিট ও ক্যাপটিভ জেনারেশনের (তাপ-প্রক্রিয়া ও নিজস্ব বিদ্যুৎ) জন্য গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে বোরো ধানের সেচ সম্পূর্ণভাবে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয় যথাক্রমে ডিজেল ও গ্যাসচালিত ট্রাক ও বাস। নৌ-পরিবহন পুরোটাই ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। শহর ও গ্রামে রান্নায় এলপিজি ব্যবহৃত হয়। ফলে জ্বালানিতে সংকট সৃষ্টি হলে অন্য সব খাতেই তার বহুমাত্রিক প্রভাব পড়ে। 

 

 

 

ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০ ডলার বাড়লে বার্ষিক আমদানি বিল আনুমানিক ৬০ কোটি ডলার বাড়ে। ইরানে হামলার পর প্রথম দিনেই পেট্রলের দাম ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়ে গেছে। বেড়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও, যা বাংলাদেশের কারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং যুদ্ধের মুখে পড়া উপসাগরীয় উৎস থেকে এলএনজি হিসেবে আমদানি করা হয়। বেশি আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমে যাওয়ায় টাকার মান চাপে পড়বে। এ অবমূল্যায়ন সব আমদানির দাম আরো বাড়িয়ে দেবে। ডিজেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি খামার ও বাজার দুই স্তরেই খাদ্যমূল্যে ছড়িয়ে পড়ে। গ্যাসের দাম এরই মধ্যে ২০২৩ সালের তুলনায় তিন গুণ বেশি। এ দাম আরো বাড়াতে হবে অথবা বাড়তি খরচ সরকারকে বহন করতে হবে। কিন্তু এ অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের এ ভর্তুকি দেয়ার সামর্থ্য নেই। এতে জ্বালানি মূল্যের ধাক্কা পরিবহন, কৃষি, উৎপাদন, ভোক্তাবাজার এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

 

পোশাক খাত ২০২৫ সালে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে এবং মোট রফতানির ৮০ শতাংশের বেশি এ খাত থেকে আসে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার। জ্বালানির দীর্ঘস্থায়ী ধাক্কা এ খাতকে দুই দিক থেকে চাপে ফেলবে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ বেশি দামে কিনতে হলে উৎপাদন খরচ বাড়বে। তেলের ট্যাংকার ভারত মহাসাগরের যে পথে চলে, কনটেইনার জাহাজও সেখানে ভিড় করলে পণ্যবাহী জাহাজের ভাড়া বাড়বে এবং বন্দরে পৌঁছানোর সময় দীর্ঘ হবে। সরবরাহ বিলম্বিত হলে ক্রেতারা বিকল্প খুঁজতে পারেন।

 

 

 

চলমান এ সংঘাত সাময়িক বলে মনে হচ্ছে না। এটি আমাদের বাজারের অস্থিরতা ও বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলে ধরছে। অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা, সীমিত সরবরাহপথ, দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধানে ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত মজুদের অভাব অর্থনীতিকে ধারাবাহিক ধাক্কার ঝুঁকিতে ফেলেছে, ফলে বিদ্যুৎ খাত, শিল্প, কৃষি, রফতানি ও আর্থিক বাজার ইত্যাদি একসঙ্গে চাপে পড়তে পারে। তাই কৌশলগত বৈচিত্র্য আনা ও প্রতিকূলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা গড়ে তোলা এখন কেবল নীতিগত বিবেচনা নয়, এটি অর্থনৈতিক আবশ্যকতা।

 

 

 

স্বল্পমেয়াদে কিছু নীতিগত পদক্ষেপ এ চাপ কমাতে পারে। সরকার এরই মধ্যে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে, যেমন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটের দিকে বাড়ানোর উদ্যোগ এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। উচ্চমূল্য সত্ত্বেও গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়ানো হয়েছে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ন্যাশনাল রিভিউ কমিটি আদানির সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সম্পাদিত উচ্চমূল্যের এ চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়ায় গুরুতর দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উত্থাপন করে আন্তর্জাতিক আদালতে এসব চুক্তি বাতিলের জন্য আবেদনের পরামর্শ দিয়েছে। এ অবস্থায় বর্ধিত এ বিদ্যুৎ আমদানির সিদ্ধান্ত ওই চুক্তিকে আইনি বৈধতা দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অবশ্য এসব পদক্ষেপ তাৎক্ষণিক ব্ল্যাকআউট এড়াতে সহায়তা করতে পারে, তবে এতে আর্থিক ও কৌশলগত চাপ তৈরি হয়। কার্যকর বিদ্যুৎ চাহিদা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। স্বল্পমেয়াদে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে বিশেষায়িত কর সমন্বয় ও লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি দেয়া যেতে পারে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান নয়, কারণ এতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংকট আরো প্রলম্বিত হলে কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া উপায় নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে জ্বালানি বণ্টনে রফতানিমুখী শিল্প ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে ঘাটতি সামাল দেয়া যেতে পারে, যাতে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়।

 

 

দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এ খাতে গুণগত ও কার্যকর কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমানে উচ্চমূল্যের যেসব বিদ্যুৎ চুক্তির কারণে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে। দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে গ্যাস অনুসন্ধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে সমুদ্র এলাকায় অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করা দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এলএনজি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ থাকলেও এখনো স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বেশি। মূলধারার বাইরেও বিকল্প বাণিজ্যপথের ওপর জোর দিয়ে বহুমাত্রিক বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি করতে পারলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব, তবে তা বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় সতর্কভাবে করতে হবে। জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নও জরুরি। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত সম্পন্ন করলে অভ্যন্তরীণ সরবরাহপথের সংকট কাটানো যাবে। বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশকেও দীর্ঘমেয়াদে অন্তত ৩০ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে এমন পেট্রোলিয়াম আপৎকালীন মজুদ গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যমান কয়লা মজুদ বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পেট্রোলিয়াম মজুদ প্রয়োজন, কারণ পরিবহন খাত এখনো এ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। 

 

 

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভরতা কমাতে অপরিহার্য। নীতিমালা বাস্তবায়নে দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ব্যয় সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিগতভাবে কার্যকর সমাধান এগিয়ে নিতে হবে। অফ-গ্রিড নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট গ্রিড উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ সৌর সরঞ্জামে কর প্রণোদনা দেয়ার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বোরো ধান চাষে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত পাম্পের বিকল্প হিসেবে সৌর সেচ চালু করা গেলে জ্বালানি আমদানি কমানো সম্ভব। সরকারি ভবন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ করলে সরবরাহে বৈচিত্র্য আসবে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে। শিল্প থেকে শুরু করে টেক্সটাইল, পরিবহন, বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন খাত এবং গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ব্যবহারে কার্যকারিতা ও তদারকি মানদণ্ড এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বলবৎ করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এলপিজি, এলএনজি ও পেট্রোলিয়ামের চাহিদা কমানো যায়। এতে পণ্য উৎপাদনে ব্যয় সাশ্রয় ও প্রতিযোগিতামূলক থাকা সম্ভব হবে। এ প্রক্রিয়ায় টেক্সটাইল খাতে গ্যাস ব্যবহার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব, যা বছরে ১৫-২০টি এলএনজি কার্গোর সমপরিমাণ সাশ্রয় এনে দিতে পারে।

 

 

 

এ পদক্ষেপগুলো জটিল নয় এবং প্রযুক্তিগতভাবেও কঠিন নয়। বহুদিন ধরে এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন যথেষ্ট হয়নি। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনার আগেও এসব ব্যবস্থা যৌক্তিক ছিল। এখন এগুলো জরুরি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—হয় ভঙ্গুর সরবরাহ শৃঙ্খল ও একমাত্রিক জ্বালানি মিশ্রণের ওপর নির্ভর করে চলা, নয়তো এ বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী ও সহনশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। 

 

 

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান: গবেষণা পরিচালক, ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দায়রা)

জাহিদ হোসেন: গবেষণা সহকারী, ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দায়রা)