কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা : মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ

প্রফেসর ড. মো. মোরশেদুল আলম, শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা : মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ গত এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর মধ্যে গত মার্চ থেকে ইসরায়েল লেবাননেও ব্যাপক হামলা শুরু করেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামবাদে গত ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চূড়ান্ত কোনো অগ্রগতি ছাড়াই সমাপ্ত হয় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের মধ্যকার সপ্তাহের সংঘাত বন্ধ হয়েছিল যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ইরান কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরানের জ্বালানি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন চাপে রয়েছে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তাছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইরানের অর্থনীতি আরও দুর্বল হতে পারে এতে করে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব এবং ইসরায়েলের ধারণা হচ্ছে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়; যা দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের মূল কারণ যদিও ইরান এমন অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও এর মধ্যে অন্যতম ছিল হরমুজ প্রণালি; যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট পথটি ইরান কার্যত নিয়ন্ত্রণে রাখলেও এটিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্র একইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রাষ্ট্রটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল 

 

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি চুক্তি নিশ্চিত করা, ইরান কখনোই যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই অবস্থানে কিন্তু অটল রয়েছে। আর ইরানের উদ্বেগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে আস্থার সংকট। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধকে বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিক ভালোভাবে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের কারণে ইরানের শাসনব্যবস্থা বদলাতে পারবে কিনা-তা নিয়েও ব্যাপক সংশয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকটিতে যেসব প্রস্তাব দিয়েছিল সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা, সকল পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো মেনে নেওয়া, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করাসহ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া। আর ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রæতি, লেবাননে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির স্বীকৃতিসহ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। বৈঠকের এক পর্যায়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতার কাঠামো তৈরি হলেও হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি ইরানের জব্দ অর্থ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতদ্বৈততা দেখা দিলে তা ভেস্তে যায়। তবে আগামী ২০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের এই যুদ্ধের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল: ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো, একটি গণ-অভ্যুত্থানকে উসকে দেওয়া, সশস্ত্র কুর্দি বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে সক্রিয় করা, ইরানের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া। এই উদ্দেশ্যগুলোর প্রতিটিই ব্যর্থ হয়েছে। 

 

 

 

নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু একাই এই যুদ্ধ আরম্ভ করেছিলেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এতে টেনে এনছিলেন। নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন, ইরানকে চূর্ণ করে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ শক্তি হিসেবে রাষ্ট্রটির মর্যাদা কেড়ে নিতে। এই অসম যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বরং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ইরান। ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরানি হামলার জবাবে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারায় দুর্বলতা প্রকাশিত হয়েছে রাষ্ট্রটির। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের জোটও সত্যিকারঅর্থেই কোনো কাজে আসেনি যুদ্ধে। একটি বেআইনি যুদ্ধ শুরু করে, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের বৈধ নেতাকে হত্যা করে, একটি সভ্যতাকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি প্রদানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র মানুষের হৃদয় জয়ের লড়াইয়েও হেরে গেছে বলে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তবে এই যুদ্ধের কারণে ইরানও রাজনৈতিক অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল শোধনাগার বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের হামলা পরিচালনার ফলে আঞ্চলিরক প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে তাদের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ঘটনাগুলোকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে মনে করছে। এতে করে রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল বলয়ের সঙ্গে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ইরানের জন্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক তৈরির পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে। যুদ্ধবিরতির কারণে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন যেকোনো সময় এই সংঘাতকে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ দিতে পারে

 

 

 

নেতানিয়াহু ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল পশ্চিমা আধিপত্রের প্রধান শত্রæ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তবে যুদ্ধের ফল হিসেবে এখন মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে ইরান। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে রাষ্ট্রটি। এটি আবার ইসরায়েলের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরির স্বপ্নকে একটি বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। ইসরায়েলেরগ্রেটার ইসরারেয়লপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গত কয়েক দশকে তার পথের অধিকাংশ প্রতিবন্ধকতাই সরাতে পারলেও এখন পর্যন্ত ইরান অভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যে আঞ্চলিক প্রতিরোধের মুখোমুখি ইসরায়েলকে হতে হচ্ছে, তা আর ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শক্তিও নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর পরিপূর্ণ নির্ভরতা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। রাষ্ট্রগুলো হয়তো ধীরে ধীরে মার্কিন নির্ভরতা থেকে সরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন হরমুজ প্রণালি পার হতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অনুমতি প্রয়োজন হবে। একইসঙ্গে প্রণালির পূর্বনির্ধারিত রুট দিয়েই কেবল জাহাজগুলোকে চলাচল করতে হবে। তবে বর্তমানে প্রণালির পরিস্থিতি অস্থায়ী এবং লেবাননের পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আবারও বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজ অতিক্রম করতে পারবে বলে ইরান জানিয়েছে। 

 

 

উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে এখন তেল, গ্যাস অন্যান্য পণ্য রপ্তানির জন্য ইরানের সম্মতির ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। পারস্য উপসাগরের জলপথও ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলে আরব রাষ্ট্রগুলোকে এক শক্তিশালী ইরানের মুখোমুখি হতে হবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। তবে ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখবে। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ কৌশলগত জলপথে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের মাধ্যমে ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধ থেকে অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথে হেঁটেছেন। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কোনো চুক্তি না হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু করতে পারেন বলে ট্রাম্প জানান। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সময় নাও বৃদ্ধি করতে পারেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই অবরোধ দ্রæ ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে দেশটির অধিকাংশ বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া তেল রপ্তানি থামিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকদিনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি মুদ্রার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করতে পারে। এই অবরোধ আবার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ অবরোধটির পরোক্ষ উদ্দেশ্য হলো চীন ভারতের মতো রাষ্ট্রগুলো যারা ইরান থেকে তেল ক্রয় করে, তাদের ওপর চাপ তৈরি করা। এতে করে ইরানকে আলোচনায় আনা সম্ভব হবে। তবে মার্কিন বাহিনী যদি ইরান থেকে আসা কোনো চীনা জাহাজ যদি আটক করে, সেক্ষেত্রে টনৈতিক সঙ্কট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যদি ইরানের চুক্তি সম্পাদিত হয় সেক্ষেত্রে তা শুধু নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরাজয় হবে না; তা হবে এত দিনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ওপরও চরম আঘাত। আর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে কিন্তু শক্তির দাপটে নয়, বরং নিজের তৈরিকৃত সংকট সামলাতে বাধ্য হওয়ার কারণেই বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। একসময় ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর রাজধানীতে যুদ্ধবিরতির আলোচনা হতো। আর এখন দক্ষিণের রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা নিতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রমাণ করেছে, চরম হুমকি সামরিক শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বব্যবস্থা টেকসই হতে পারে না। যুদ্ধ আরও প্রমাণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যের যুগ অনেকটা শেষের দিকে। ইরান যুদ্ধের সামরিক সামরিক ফলাফল এখনো অনিশ্চিত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জনমত রাজনৈতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে করে ভবিষ্যতে এই দুই রাষ্ট্রের টনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। বর্তমান সময়ে এস নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে বৈশ্বিক দক্ষিণের রাষ্ট্রগুলো নেতৃত্ব দিচ্ছে। চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা, কিউবাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, ইরানের বিরুদ্ধে কঠিনতম অবস্থান, ইসরায়েলকে একতরফা সমর্থন দিয়ে যাওয়া, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক অভিবাসন নীতি, বিদেশি সহযোগিতা হাস করা, গ্রিনল্যান্ডকে হুমকি প্রদান, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণ, ইরানের বিরুদ্ধে অযৌক্তি যুদ্ধ পরিচালনা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের প্রমাণ বহন করে। আর এর অভিঘাত আজ বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়েছে