কল করুন

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার কবলে তৈরি পোশাকের বাজার

জানুয়ারিতে কমেছে বাংলাদেশের রপ্তানি রাশেদ হোসাইন [সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৪ মার্চ ২০২৬]

যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার কবলে তৈরি পোশাকের বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাত নানান প্রতিকূলতার মধ্যে যাচ্ছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, পাল্টা শুল্ক, মার্কিন ভোক্তা ব্যয়ে চাপ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিকূলতা এখনো কমেনি।

 

 গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখানে তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি পোশাক আমদানি করেছিল ৭ হাজার ১৯৩ মিলিয়ন ডলারের, আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির আমদানি কমেছে, যা ছিল ৬ হাজার ২২২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এ সময়ে আগের বছরের তুলনায় আমদানি কমেছে ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ, আর গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ২ দশমিক ০৬ শতাংশ।

 

 

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৯১ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা ছিল ৭৯৮ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে রপ্তানি মূল্য শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট হিসেবে ১৭ দশমিক ০৯ শতাংশ কমেছে। তবে গড় ইউনিট মূল্য ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর পোশাক রপ্তানি ও আয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামের রপ্তানি মূল্য ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে, আর রপ্তানির পরিমাণ ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও গড় ইউনিট মূল্য শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে ছাড়িয়ে ভিয়েতনাম এখন প্রথম অবস্থানে। বাংলাদেশের অবস্থান এখনো তৃতীয় স্থানে।

 

 

 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীন বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পোশাক রপ্তানি মূল্যের দিক থেকে ৬২ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে, রপ্তানির পরিমাণ ৫১ দশমিক ২৩ শতাংশ কমেছে এবং গড় ইউনিট মূল্য ২২ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমেছে। ভারতের রপ্তানি মূল্য ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ কমেছে, রপ্তানির পরিমাণ ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে এবং ইউনিট মূল্য ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। আর পাকিস্তানের রপ্তানি মূল্য ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে এবং রপ্তানি পরিমাণ ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমেছে, তবে গড় ইউনিট মূল্য সামান্য শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে।